হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে মামলা করবে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যম

হোয়াইট হাউসের বাইরে থেকে প্রতিবেদন করছেন এমএস নাওয়ের সংবাদদাতা আকায়লা গার্ডনার। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো আজ সোমবার বলেছে, হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘটনায় তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করবে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করছে এ নিষেধাজ্ঞা। এটা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার উল্লিখিত তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এসব সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রতিবেদনে তিনি বিরক্ত। পরদিন শনিবার ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আজ সোমবার টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের পুলের প্রতিনিধিত্ব থেকেও সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম তিনটি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, আজ মামলা করা হবে, এ কথা তারা মার্কিন সরকারকে জানিয়েছে।

বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘কোনো নোটিশ না দিয়ে বা প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হোয়াইট হাউস আমাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করেছে। কারণ, তারা আমাদের প্রতিবেদন পছন্দ করেনি। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ না করলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে।’

হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর যে বিরোধ চলছিল, এ নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে তা আরও তীব্র হলো। বিশেষ করে ওয়াশিংটনে এ বিরোধ বেশ স্পষ্ট। ট্রাম্প তাঁর প্রতি তুলনামূলকভাবে বন্ধুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যমগুলোকে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে জায়গা দিয়েছেন। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ওভাল অফিসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি। আদালতে ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। তবে এর আগে কোনো সংবাদমাধ্যমকে পুরো হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশে ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা দেননি।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা ব্যক্তি ও অন্য সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলো এ নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক বলে তীব্র সমালোচনা করেছে। এপির চিফ কমিউনিকেশনস অফিসার লরেন ইস্টন গত শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে তাঁর ব্যবহৃত শব্দের কারণে সরকারের প্রতিশোধের শিকার করা উচিত নয়।’

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সংবাদমাধ্যমগুলোকে অবিরাম মনগড়া ও মিথ্যা সংবাদ লেখা বা প্রচারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’ ওই দিন পরে ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যে দেশ মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচক সংবাদ লেখার সুযোগ দেয়, সেই দেশে কোথাও একটা সমস্যা আছে।’

সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে আগের কয়েকটি আইনি লড়াইয়ে কেন্দ্রীয় আদালত বলেছিলেন, সরকারি কর্মকর্তারা সংবাদকর্মীদের একবার প্রবেশাধিকার দিলে, পরে শুধু তাঁদের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ার কারণে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বাদ দিতে পারেন না।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউস দুজন সাংবাদিকের পরিচয়পত্র বাতিল করেছিল। তাঁরা হলেন সিএনএনের জিম অ্যাকোস্টা ও প্লেবয়ের সংবাদদাতা ব্রায়ান কারেম। পৃথকভাবে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর দুজনই তাঁদের পরিচয়পত্র ফিরে পান। দুই মামলাতেই বিচারকেরা বলেছেন, কোনো সাংবাদিকের প্রবেশপত্র বাতিল করার আগে হোয়াইট হাউসকে তাঁকে সেই সিদ্ধান্তের কারণ খণ্ডনের সুযোগ দিতে হবে।

আরও পড়ুন