নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরি হামলায় একজন আহত, গুলি–বিশৃঙ্খলা

টাইমস স্কয়ারে গুলির খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ১৮ জুন, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে পালান। এ ঘটনায় এক কিশোরকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বলেছে, গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার কিছু পর ব্রডওয়ে এলাকার ওয়েস্ট ফোরটি ফোর্থ ও ওয়েস্ট ফোরটি ফিফথ স্ট্রিটের মাঝামাঝি বেশ কয়েকজন জমায়েত হয়ে বিবাদে জড়ান। এক পর্যায়ে ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গলায় ছুরিকাঘাতে আহত হন।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বিবাদে জড়ানো লোকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাকে আটক করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

পরে ওয়েস্ট ফোরটি ফিফথ স্ট্রিট ও এইট অ্যাভিনিউ এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ বলেছে, এ দুই গুলির ঘটনার কোনোটিতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে গলায় ছুরিকাঘাতে আহত ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সেরে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান।

ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বেশ কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তকারীদের একটি নীল রঙের হুন্দাই গাড়ির হুডের নিচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখা যায়। কারণ, ওই গাড়ির মালিক বলেছেন, ঘটনার সময় কোনো একটা বস্তু তাঁর গাড়িতে আঘাত করেছিল।

পুলিশ বলেছে, ওই স্থান থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান।

গুলির পর টাইমস স্কয়ারে বিশৃঙ্খলা

টাইমস স্কয়ারে গুলির শব্দ শোনার পর মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে শুরু করে। এ সময় পাশের রেইজিং কেইন’স রেস্তোরাঁর ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী মাইকেল রিড বলেন, ‘মনে হচ্ছিল, যেন কাচ ভাঙার শব্দ হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কে দৌড়ে ভেতরে (রেস্তোরাঁয়) ঢুকছিল।’

এডান স্পেন্সার নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘অনেক মানুষ হুড়োহুড়ি করছিল এবং দৌড়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছিল। শিশুরাও মেঝেতে শুয়ে পড়েছিল। শব্দটা খুব জোরে ছিল। মনে হচ্ছিল, এটা ঠিক আমার পেছনে বা পাশে ঘটছে। আমি শুধু মেঝেতে শুয়ে পড়েছিলাম।’

অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা দেখলাম সবাই দৌড়াতে শুরু করেছেন, তাই আমরা হেরশি স্টোরে ঢুকে পড়ি। আমরা সেখানেই ছিলাম।’

ঘটনার সময় ফুটপাতে পণ্য বিক্রি করছিলেন শাদ মিয়া। তিনিও গুলির শব্দ শুনেছেন।

শাদ মিয়া বলেন, ‘আমি গ্রাহকদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ শব্দ শুনি এবং দেখি লোকজন দৌড়াচ্ছেন। এটা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয়, কারণ এটি একটি পর্যটন এলাকা।’