রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আইন কার্যকর হওয়ার এক দিন আগেই স্থগিত করলেন ট্রাম্প
রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার এক দিন আগেই তা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে গত মাসে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিধান রেখে একটি আইনে সই করেছিলেন তিনি।
ওই আইনে রাশিয়ার পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ছিল।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউস এক নির্বাহী আদেশ প্রকাশ করেছে। ওই আদেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের ওপর এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধরত রাশিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধি করতেই গত মাসে ওই আইন পাস করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার প্রতি অপেক্ষাকৃত নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। বিপরীতে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি ইউক্রেনে একজন নতুন নেতা নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই চাপে রয়েছেন মার্কিন ভোক্তারা।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ছিলেন আইনটির অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে পারত।
আইনটি কার্যকরের ৩০ দিন পরও যেসব দেশ জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনত, তাদের পণ্যেও এ শুল্ক আরোপের সুযোগ ছিল। রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা শীর্ষ পাঁচ দেশের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, তিনি বা তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ার। তাঁর অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করছেন ট্রাম্প।
এক বিবৃতিতে বেয়ার বলেন, ‘পুতিনের কাছে ট্রাম্পের এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আবারও আমাদের ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনের শাস্তি দিতে প্রণীত আইনটির বিষয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট অভিপ্রায়কেও তিনি উপেক্ষা করেছেন।’
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল নিয়ে একটি চুক্তির কারণেও কয়েকজন মার্কিন সিনেটরের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের সদস্যরাও ছিলেন।
ওই চুক্তিতে রাশিয়ার রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়েছিলেন ট্রাম্প। বিনিময়ে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া। এর উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানির দাম কমানো। তবে সমালোচক আইনপ্রণেতারা বলেছিলেন, এ চুক্তির