যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নতুন আটককেন্দ্র হচ্ছে, ৩৮৩০ কোটি ডলার ব্যয় করবে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর একটি আটককেন্দ্ররয়টার্স ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিরোধী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই, যা আইস নামে পরিচিত) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আটককেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনায় ৩ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার খরচ করার পরিকল্পনা করছে। গত বৃহস্পতিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারের গভর্নর কেলি আয়োটের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গভর্নরের দপ্তর থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মার্কিন সিনেটে এক শুনানির পর আয়োট একটি তদন্ত করেন। ওই তদন্ত শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নথিটি সরবরাহ করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইসিই বিদ্যমান ১৬টি ভবন কিনে সেগুলো সংস্কার করবে। এগুলোকে আঞ্চলিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। সেখানে তিন থেকে সাত দিনের জন্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ জনকে আটক রাখা যাবে।

আইসিই আরও আটটি বড় আটককেন্দ্র চালু করবে। সেগুলোতে গড়ে ৬০ দিনের জন্য ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার জনকে আটক রাখা সম্ভব হবে। ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা অভিবাসীদের জন্য এগুলো ‘প্রধান অবস্থানস্থল’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নথিতে বলা হয়েছে, ‘নতুন এই মডেল আইসিইকে একটি কার্যকর আটক নেটওয়ার্ক গড়তে সাহায্য করবে। এতে চুক্তিভিত্তিক আটককেন্দ্র ব্যবহারের সংখ্যা কমবে, আটককেন্দ্রে মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে যাবে, আটক ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং প্রত্যর্পণ কার্যক্রম দ্রুততর হবে।’

পরিকল্পনার আওতায় থাকা ভবনগুলো সংস্কার করতে আইসিই ঠিকাদার নিয়োগ করবে। এগুলোতে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে, ক্যানটিন, লবি, বিনোদন এলাকা, ডরমিটরি ও আদালত কক্ষ থাকবে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে রিপাবলিকান–নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে পাস হওয়া ব্যয় প্যাকেজের আওতায় এই আটককেন্দ্রগুলোর জন্য অর্থায়ন করা হবে। প্যাকেজটি ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত।

এতে অভিবাসনবিরোধী আইন প্রয়োগের জন্য ১৭ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসীদের আটক রাখা বাবদ ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৪ অর্থবছরের বাজেটে অভিবাসী আটকে ৩৪০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

নথি অনুযায়ী, আইসিই আশা করছে, এই নতুন আটককেন্দ্রগুলোতে ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ নাগাদ কার্যক্রম শুরু করা যাবে। এগুলো চালু হলে সংস্থার আটক কেন্দ্রগুলোর শয্যাসংখ্যা বেড়ে ৯২ হাজার ৬০০–তে দাঁড়াবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইসিইর আটককেন্দ্রে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়ে চলতি মাসে ৬৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

ট্রাম্প গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রধান প্রধান শহরে অভিবাসনবিরোধী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এজেন্টদের পাঠিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের হার বৃদ্ধি করেছে।