তাসনিমের প্রতিবেদন
ট্রাম্পের অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার অর্থ কী, ইরান কীভাবে দেখছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া এক পোস্টে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। যতক্ষণ না আলোচনার ফলাফল জানা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে।
তবে বিভিন্ন সূত্রের কাছ থেকে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানতে পেরেছে, ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য কোনো অনুরোধ করেনি।
ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির’ ঘোষণাটি দেওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, এর অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম।
প্রথম ব্যাখ্যাটি হলো ট্রাম্প যুদ্ধে কার্যত হেরে গেছেন। তিনি যুদ্ধের সময় সব সম্ভাব্য কৌশল পরীক্ষা করেছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাই যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসাকেই তিনি সবচেয়ে ভালো বিকল্প মনে করছেন।
দ্বিতীয় আরেকটি ব্যাখ্যা হলো যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে প্রতারণা বা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তারা যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে বা পরোক্ষভাবে আবার হামলা চালাতে পারে, অথবা তাদের আঞ্চলিক মিত্র (ইসরায়েল) একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
তৃতীয় ব্যাখ্যা হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে যেতে চাইছে। কিন্তু ইসরায়েল এই সংঘাতে থেকে যেতে পারে। যেমন লেবাননের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে তারা সংঘাত চালিয়ে যেতে পারে।
চতুর্থ ব্যাখ্যা হতে পারে—যদি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ চলতে থাকে, তাহলে সেটাকে যুদ্ধ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। এ পরিস্থিতিতে যতক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ তুলে না নেওয়া হবে, অন্তত ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না ইরান। প্রয়োজন হলে ইরান শক্তি প্রয়োগ করে সে অবরোধ ভেঙেও ফেলবে।
৫) পঞ্চম ব্যাখ্যাটি হতে পারে এমন—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ‘ছায়া’ রেখে তার অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অনিশ্চয়তায় রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি গত বছরের ‘১২ দিনের সংঘাতপরবর্তী’ অবস্থার মতোই।
তবে ওই পরিস্থিতির সঙ্গে এখনকার পরিস্থিতির একটি বড় মৌলিক পার্থক্য আছে। সেটি হলো ইরান এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এর অর্থ, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেল ও বাণিজ্য চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ইরানের হাতে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের ওপর যুদ্ধের ‘ছায়া’ বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের জানা উচিত, ওই প্রণালি তখন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।