যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় পাঠালে নগদ লেনদেনে ১ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে

ডলারপ্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) পাঠাতে নগদ লেনদেনে প্রতি ১০০ ডলারে অতিরিক্ত ১ ডলার কর দিতে হবে। নতুন এই ফেডারেল এক্সাইজ ট্যাক্স চলতি বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাববিহীন অবৈধ অভিবাসী ও কম আয়ের প্রবাসীদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে এই কর আরোপ করা হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক নাম ‘এক্সাইজ ট্যাক্স অন রেমিট্যান্স ট্রান্সফার’। গত বছরের মে মাসে কংগ্রেসে পাস হওয়া বিলটি গত বছরের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্প স্বাক্ষর করেন।

আইন অনুযায়ী, শুধু নগদ (ক্যাশ), মানি অর্ডার, ক্যাশিয়ার্স চেক বা অনুরূপ ফিজিক্যাল মাধ্যমে পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর এই ১ শতাংশ কর প্রযোজ্য। ব্যাংক হিসাব, ডেবিট কার্ড বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে (যেমন অনলাইন ট্রান্সফার) পাঠালে কোনো অতিরিক্ত কর দিতে হবে না।

আরও পড়ুন

নিয়মিত বাংলাদেশে টাকা পাঠান যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জোহাইব চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছুতেই কর দিতে হয়। এবার রেমিট্যান্সেও। এটি আমাকে বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে কিছুটা নিরুৎসাহিত করছে। বাংলাদেশ সরকার যদি প্রণোদনার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করে, তাহলে প্রবাসীদের জন্য ভালো হবে।’

নিউইয়র্কে একটি দোকানের ব্যবস্থাপক অসীম কুমার কয়েকটি সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাংক কার্ড বা ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ পাঠালে এই কর দেওয়া লাগে না। শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রেই এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।’

স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মালেক বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইন, মানতেই হবে। গত বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম স্থানে ছিল, এখন পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে। অবশ্য এই অতিরিক্ত করের কারণে অনেকে অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হতে পারেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধি করতে পারে। প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ ছাড়াও মেক্সিকো, ভারত, ফিলিপাইনসের মতো প্রবাসী আয়-নির্ভর দেশগুলোতে এই করের প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন