জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ নীতি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন ভিসা বিধিনিষেধ নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা বিদেশিদের দেশটির ভিসা নীতির অপব্যবহার করতে দেবে না। একই সঙ্গে বার্থ ট্যুরিজম বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বা এতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে একটি নতুন ভিসা বিধিনিষেধ নীতি ঘোষণা করেছে দেশটি।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বিদেশি বাণিজ্যিক বার্থ ট্যুরিজম নেটওয়ার্কগুলো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বিক্রি করতে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।

এই নেটওয়ার্কগুলো বিজ্ঞাপন দেয় এবং বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদনে মিথ্যা বলতে উদ্বুদ্ধ বা পরামর্শ দেয়। কেবল মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্তান জন্মদানের ব্যবস্থার বিনিময়ে তারা ১০ হাজার ডলার সংগ্রহ করে।

রুবিও বলেন, ‘আজ আমি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৩)(সি) ধারার অধীনে একটি নতুন ভিসা বিধিনিষেধ নীতি ঘোষণা করছি।’

এই নীতি এমন ব্যক্তিদের প্রতি লক্ষ্য রেখে তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রে বার্থ ট্যুরিজমে লিপ্ত হন, আগে লিপ্ত হয়েছেন অথবা এতে সহায়তা করেন। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক বার্থ ট্যুরিজম সুবিধা প্রদানকারী নেটওয়ার্কের মালিক, পরিচালনাকারী ও ম্যানেজাররা; ভিসা ফিক্সার বা দালাল, যারা আবেদনকারীদের জালিয়াতি করার কৌশল শেখায়; বিদেশি চিকিৎসা প্রদানকারী যারা জেনেশুনে এ ধরনের ভ্রমণ এবং আমাদের মেডিকেড ব্যবস্থার জালিয়াতিমূলক ব্যবহারে মদদ ও সহায়তা দেয়; এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা যারা বাণিজ্যিক বার্থ ট্যুরিজমকে সমর্থন, মদদ ও সক্ষম করে তোলে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষা, মার্কিন জনকল্যাণ সুবিধা ও করদাতাদের শোষণ থেকে রক্ষা এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি হাতিয়ার ব্যবহার করছে।’

রুবিও বলেন, যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এবং তা থেকে মুনাফা অর্জন করে—উভয় পক্ষের জন্যই ভিসা ইস্যু সীমিত করার মাধ্যমে তারা একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন।
এই ভিসা বিধিনিষেধ নীতিটি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৩)(সি) ধারা অনুযায়ী কার্যকর করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সদস্যরাও এই বিধিনিষেধের আওতায় আসতে পারেন।