ডেমোক্র্যাট নেতারা বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয় পেলে গর্ভপাতের অধিকার হরণসহ দেশের বিভিন্ন আইনে পরিবর্তন নিয়ে আসবেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র হুমকিতে পড়বে। অন্যদিকে, রিপাবলিকান নেতারা বলেছেন, দেশের জনগণ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিতে বাইডেনের নীতিমালাগুলো দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

গতকাল সোমবার মেরিল্যান্ডে জড়ো হওয়া উল্লসিত জনতার উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আজ আমরা উত্থান-পতনের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা খুব ভালো করে জানি যে আমাদের গণতন্ত্র ঝুঁকিতে আছে। আমরা এটাও জানি যে এটিকে সুরক্ষা দেওয়া যাবে কি না, তা এখন আপনাদের হাতে নির্ভর করছে।’
কিছুক্ষণ পরই হোয়াইট হাউসে ফিরে বাইডেন আরও খোলাখুলি কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা সিনেটে জয় পাব। প্রতিনিধি পরিষদের লড়াইটা তুলনামূলক কঠিন হবে।’

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী নির্দলীয় বিশেষজ্ঞরা আভাস দিয়েছেন, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে বেশি আসন পাবেন। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে রিপাবলিকানদের যে একটি আসনে জয় প্রয়োজন, সেটিও পেতে পারেন তাঁরা।

আল–জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বলেন, এ ধরনের ফলাফল হলে আগামী দুই বছর ডেমোক্র্যাট ও বাইডেনের জন্য বিপর্যয় নেমে আসবে।

ফিশার বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের জন্য খুব সামান্যই ভালো খবর আছে।’

ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সমাবেশে ট্রাম্পের সমর্থকেরা লাল রঙের বেসবল ক্যাপ ও কালো রঙের টি–শার্ট গায়ে যোগ দিয়েছিলেন। টি-শার্টে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি। এর সঙ্গে লেখা ছিল ‘যিশু আমার ত্রাণকর্তা, ট্রাম্প আমার প্রেসিডেন্ট’।

গতকাল হোয়াইট হাউস বলেছে, আজ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, তারা দেশজুড়ে ৬৪টি এলাকায় ভোট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আগাম ভোট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএস ইলেকশন প্রজেক্ট বলেছে, ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি মার্কিন নাগরিক ইতিমধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এলাকাগুলোর ফলাফল পেতে এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার কাছে যাচ্ছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।