ট্রাম্পের ডাক পেয়ে সরাসরি সম্প্রচার হওয়া সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান থেকে চলে গেলেন অর্থমন্ত্রী

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টছবি: রয়টার্স

সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচারে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। আপনি একটি সাক্ষাৎকারের মাঝখানে আছেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই খোদ প্রেসিডেন্টের ডাক এল। গত বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারের মাঝপথে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে জানানো হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ অবিলম্বে দেখতে চাচ্ছেন।

স্কাই নিউজের সঙ্গে বেসেন্টের সাক্ষাৎকার চলাকালে একজন নারীকে হঠাৎ বলতে শোনা যায়, ‘প্রেসিডেন্ট আপনাকে এখনই ডাকছেন।’

বেসেন্ট উঠে সাক্ষাৎকার কক্ষ ত্যাগ করার সময় স্কাই নিউজের উপস্থাপক উইলফ্রেড ফ্রস্ট বলেন, ‘শিগগিরই আপনার সঙ্গে দেখা হবে, মিস্টার সেক্রেটারি।’ ট্রাম্প বেসেন্টকে ডেকে নেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর অনুষ্ঠানটি আবার শুরু হয়।

সাক্ষাৎকার আবার শুরু হলে ফ্রস্ট বলেন, এটিই প্রথম কোনো ঘটনা, যখন তিনি কোনো লাইভ টেলিভিশন সাক্ষাৎকার মাঝপথে বন্ধ হতে দেখলেন। তিনি ট্রাম্পের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান এবং প্রশ্ন করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে প্রেসিডেন্ট কি কোনো মানসিক চাপে আছেন?

বেসেন্ট উত্তরে বলেন, ‘না, প্রেসিডেন্ট খুব ভালো মেজাজে আছেন। ইরান মিশন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই সাফল্যের সঙ্গে এগোচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের নেতৃত্বের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন ও প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের কথা উল্লেখ করে বেসেন্ট বলেন, ‘আমি আপনাকে বলি, আমার এক কিশোর সন্তান আছে, যে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প থেকে শুরু করে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতি আমার সর্বোচ্চ প্রশংসা হিসেবে এই কথাটি বলতে পারি—আমি আমার সন্তানের জীবন তাদের হাতে নিশ্চিন্তে তুলে দিতে পারি।’

বেসেন্ট উপস্থাপক ফ্রস্টকে আরও জানান, ইরানের বন্ধ করে দেওয়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক জোট’ পাহারা দিতে পারে।

এই ভিডিও ক্লিপটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ (সাবেক টুইটার) অনেকে হোয়াইট হাউস থেকে ফিরে আসার পর বেসেন্টের আচরণ নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা শুরু করেন। কেউ কেউ বলেন, সাক্ষাৎকারের বাকি অংশে তাঁকে বেশ বিচলিত দেখাচ্ছিল।

একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তিনি বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, বেসেন্টকে অস্থির দেখাচ্ছিল এবং সামরিক বাহিনী নিয়ে তার মন্তব্যগুলো মূলত ‘সবকিছু ঠিক আছে’ এমন সান্ত্বনা দেওয়ার একটা চেষ্টা ছিল। ওই ব্যবহারকারী আরও যোগ করেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে।’

আরেক এক্স ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘আমি তাঁকে এর আগে কখনো এভাবে প্রকাশ্যে বিচলিত হতে দেখিনি।’

আরেকজন ব্যবহারকারী বেসেন্টের ‘আড়ষ্ট ভঙ্গি’ এবং ‘গলার স্বরের তীক্ষ্ণতা’–এর দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘তাঁকে মোটেও স্বস্তিতে দেখাচ্ছিল না।’ আবার কেউ কেউ বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বেসেন্টের দৃশ্যমান বিচলিতবোধ অস্বীকার করার উপায় নেই।’ সাক্ষাৎকারের সময় তাঁর গলার স্বর কেঁপে যাওয়া এবং তোতলানোর বিষয়টিও ব্যবহারকারীরা উল্লেখ করেন।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ২ হাজার ৫০০ নৌসেনা এবং একটি উভচর যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর এই অঞ্চলে এটি বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ।

এর কয়েক ঘণ্টা পরে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপে’ সামরিক লক্ষ্য  স্থাপনাগুলো ‘ধ্বংস’ করেছে। তিনি সতর্ক করে দেন, ওই দ্বীপের তেল অবকাঠামোগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।