যুদ্ধকালে ইরানের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করবে না মার্কিন কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবস
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব অঞ্চলে সংঘাত চলছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য সেসব এলাকার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ না করার ঘোষণা দিয়েছে স্যাটেলাইট ইমেজিং কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে কোম্পানিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিটি গতকাল শনিবার গ্রাহকদের ই–মেইলের মাধ্যমে তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
কয়েকটি সংবাদ সংস্থা তাদের বরাতে বলেছে, মার্কিন সরকার স্যাটেলাইট চিত্র প্রদানকারীদের ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছবি প্রকাশ স্থগিত রাখতে’ বলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবারই প্রথম নয়, বরং এটি আগের একটি সিদ্ধান্তের সম্প্রসারণ। প্ল্যানেট ল্যাবস গত মাসে ওই অঞ্চলের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশের ওপর ১৪ দিনের বিলম্ব আরোপ করেছিল। অর্থাৎ, কোনো ছবি তোলার ১৪ দিন পর সে ছবি প্রকাশ করা হবে। এর আগে প্রাথমিকভাবে ৯৬ ঘণ্টার বিলম্ব আরোপ করা হয়েছিল।
কোম্পানিটি বলেছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষকে এসব চিত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত রাখা।
প্ল্যানেট ল্যাবস বলেছে, তারা গত ৯ মার্চ থেকে তোলা কোনো ছবি আর প্রকাশ করবে না। তারা আশা করছে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে পারবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা থেকে এ যুদ্ধ শুরু হয়।
তার পর থেকে সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপরও আঘাত করেছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) সাবেক এক বিজ্ঞানী ২০১০ সালে প্ল্যানেট ল্যাবস প্রতিষ্ঠা করেন। প্ল্যানেট ল্যাবস তাদের গ্রাহকদের কাছে পাঠানো ই–মেইলে বলেছে, তারা ছবি ‘নিয়ন্ত্রিত বিতরণব্যবস্থায়’ যাবে, যাতে ছবিগুলো থেকে কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি না হয়।
নতুন ব্যবস্থায় প্ল্যানেট ল্যাবস প্রতিটি ছবির বেলায় সেটি কতটা জরুরি, কেমন অভিযান বা কতটা গুরুত্বপূর্ণ অথবা জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
ক্যালিফোর্নিয়া–ভিত্তিক কোম্পানিটির বরাতে আরও বলা হয়েছে, ‘এ রকম বিশেষ পরিস্থিতিতে, আমাদের সব অংশীদারের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের পক্ষে যা কিছু করা সম্ভব, আমরা তার সবই করছি।’
স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে: লক্ষ্য শনাক্তকরণ, অস্ত্র নির্দেশনা, ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাকিং ও যোগাযোগব্যবস্থা।
কয়েকজন মহাকাশবিশেষজ্ঞ বলেন, ইরান বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও তারা এমন ছবি পেতে পারে।