ইরান–ট্রাম্প দ্বন্দ্ব কি ব্যক্তিগত পর্যায়ে গড়িয়েছে, নিজের মৃত্যুভয় নিয়ে সাংবাদিকদের কী বললেন ট্রাম্প

গত ৮ জুলাই ইংল্যান্ডের মিলডেনহলে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসতে দেখা যাচ্ছেছবি: রয়টার্স

‘সে আমাকে আঘাত করার আগেই আমি তাকে আঘাত করেছি। তারা দুবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমি আগে তাকে আঘাত করেছি।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পরদিন এবিসি নিউজের প্রতিবেদক জোনাথন কার্লের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপচারিতায় এ মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ও সমন্বয়ে পরিচালিত ওই অভিযানের প্রথম দিনই ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। সেদিন ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় দেশটির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন।

ট্রাম্প ওই হামলার সঙ্গে অতীতে ইরানিদের পক্ষ থেকে তাঁকে বিভিন্ন সময় দেওয়া হুমকি ও কথিত হত্যাচক্রান্তের সরাসরি সম্পর্ক টেনে দেখান।

যুদ্ধ শুরুর পর গত প্রায় পাঁচ মাসে ট্রাম্পকে আর এ ধরনের মন্তব্য করতে দেখা যায়নি, তবে এ সময়ে তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একই ধরনের কথা বলেছেন।

গত মার্চ মাসে হেগসেথ বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইরান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই জয়ী হয়েছেন।’

ইসরায়েলপন্থী এই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও দাবি করেন, ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্যে গঠিত একটি দলের নেতৃত্বে থাকা এক অজ্ঞাতনামা ইরানি ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন।

এসব মন্তব্য যুদ্ধটির ব্যক্তিগত মাত্রার ইঙ্গিত দেয়। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নিরাপত্তা দলের এই উদ্বেগও তুলে ধরে, ইরান এখনো ট্রাম্পের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকতে পারে।

গত মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প দলবল নিয়ে একটি উড়োজাহাজে উঠে পরে গোপনে সেটি থেকে নেমে বিকল্প আরেকটি উড়োজাহাজে যাত্রা করেছিলেন। এ সপ্তাহে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সেই উদ্বেগকে নাটকীয়ভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

সেদিন ট্রাম্প গোপনে অন্য একটি উড়োজাহাজে চলে গেলেও গণমাধ্যমকর্মী এবং হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ কর্মীকে বিষয়টি জানতেই দেওয়া হয়নি। তাঁরা প্রেসিডেন্টের সরকারি এয়ারফোর্স ওয়ান ৭৪৭ উড়োজাহাজে করেই ফেরেন। ফলে উড়োজাহাজটি কার্যত ফাঁদ পাতা লক্ষ্যবস্তু (ডিকয়) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

এটি ছিল সযত্নে পরিকল্পিত এক কৌশল। এর অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্টকে তাঁর জন্য নির্ধারিত উড়োজাহাজ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখান থেকে তাঁকে গোপনে সরিয়ে নিতে উড়োজাহাজে খাবার সরবরাহকাজে ব্যবহৃত একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

কারণ, মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস ছিল, এয়ারফোর্স ওয়ান লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য তাঁরা হাতে পেয়েছেন। এই আশঙ্কা থেকেই প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষ এই নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছিল।

হোয়াইট হাউস এই হুমকি সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। তা সত্ত্বেও, ঘটনাটিকে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইতিহাসে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও সরকারি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কোনো প্রেসিডেন্ট যখন যুদ্ধক্ষেত্র বা তার কাছাকাছি অঞ্চলে ভ্রমণ করেন, তখন এ ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সেদিন ট্রাম্প গোপনে অন্য একটি উড়োজাহাজে চলে গেলেও গণমাধ্যমকর্মী এবং হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ কর্মীকে বিষয়টি জানতেই দেওয়া হয়নি। তাঁরা প্রেসিডেন্টের সরকারি এয়ারফোর্স ওয়ান ৭৪৭ উড়োজাহাজে করেই ফেরেন। ফলে উড়োজাহাজটি কার্যত প্রতারণামূলক লক্ষ্যবস্তু (ডিকয়) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

অতীতেও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা গোপনীয়তা বজায় রেখে আফগানিস্তান, ইরাক ও ইউক্রেনের মতো দেশে সফর করেছেন। তবে কখনোই এমন হয়নি, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে। সাধারণত সংবাদমাধ্যমগুলো আগেভাগেই সফরের বিষয়ে কিছুটা অবগত থাকত। তবে তারা একটি সমঝোতার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের তথ্য সফর শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ করত না।

কিন্তু তাদের গোপনীয়তা বজায় রেখে চলাচল আর ট্রাম্পের ক্যাটারিং ট্রাকের ভেতরে লুকিয়ে এক উড়োজাহাজ থেকে আরেক উড়োজাহাজে যাওয়ার বিষয়টি লোকে এক চোখে দেখছে না।

প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বড় গলায় নিজেদের সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা জাহির করেছেন এবং ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল ও ভঙ্গুর বলেছেন। এখন যদি সেই ট্রাম্পকে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে ক্যাটারিং ট্রাকের ভেতরে লুকিয়ে চলাচল করতে হয় এবং সেই খবর সবার সামনে আসে, লোকজনের দৃষ্টিতে তা কোনোমতেই ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

আঙ্কারায় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওই অভিযানের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার একটি কারণ সম্ভবত ছিল জনসমক্ষে ট্রাম্পের শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া এড়ানো।

এক মাসের বেশি সময় পর প্রকাশ্যে আসা ওই অভিযান আরও দেখিয়ে দিল, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে এসেছে বলে যে দাবি করেন বা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করার যে কথা বলেন, তা হয়তো পুরোপুরি ঠিক নয়। ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য একটি সম্ভাব্য হুমকি হয়ে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইরান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই জয়ী হয়েছেন।
পিট হেগসেথ,  মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যদিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি দেওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। নিজের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নেতা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর ইরানের নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

আরও পড়ুন

২০২২ সালে ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে লক্ষ্য করে একটি হামলা পরিকল্পনার তথ্য সামনে এলে জো বাইডেন প্রশাসন ইরানকে কোনো মার্কিন নাগরিককে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করতে সতর্ক করেছিল।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসিফ মার্চেন্ট নামের এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।

তার চার মাস পর, ফারহাদ শাকেরি নামের এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে হত্যার আরেকটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়।

গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের আগে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজের পাশে ক্যাটারিং ট্রাককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়
ছবি: এএফপি

আসিফ মার্চেন্ট ২০২৬ সালের মার্চে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, আইআরজিসির এক কর্মকর্তার নির্দেশে কাজ করা ফারহাদ শাকেরি এখনো পলাতক রয়েছেন।

এসব হত্যাচেষ্টা পরিকল্পনার পর্যায়েই নস্যাৎ করা হয়েছিল। তবু হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রচার চালানোর সময় ট্রাম্প যে সত্যিই প্রাণ হারানোর ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন, তা ছিল স্পষ্ট।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে একটি নির্বাচনী সমাবেশে এক বন্দুকধারী গুলি চালালে ট্রাম্প আহত হন এবং তাঁর মুখে রক্ত দেখা যায়।

এর দুই মাস পর, ফ্লোরিডায় ট্রাম্প গলফ খেলছিলেন, এমন একটি স্থানের কাছে গাছপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা গ্রেপ্তার করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেমাফর–এর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই নিজেকে হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে ভাবেন—এমনকি এ নিয়ে রসিকতাও করেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বরাত দিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়া যে এতটা বিপজ্জনক, তা কেউ আমাকে বলেনি। আর যদি বলত, তাহলে হয়তো আমি নির্বাচনে প্রার্থীই হতাম না।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) এ ধরনের মন্তব্য রসিকতার ছলে করেন। কিন্তু এর পেছনে বাস্তব একটি দিকও রয়েছে।’

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসিফ মার্চেন্ট নামের এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।

২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক গবেষণা স্থাপনাগুলোতে ট্রাম্পের বোমা হামলা এবং এ বছরের ব্যাপক বিমান হামলা ও নৌ অবরোধ ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের জন্য নতুন করে হুমকির সৃষ্টি করেছে। এ হুমকির জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টও সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।

জুলাই মাসে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ইরান তাঁকে ‘হত্যা করা বা হত্যার চেষ্টা করার’ হুমকি দিয়েছে।

আরও পড়ুন

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘ইরানি সরকার যদি তাদের হুমকি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে লক্ষ্য করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত ও তাক করে রাখা হয়েছে; এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।’

ইরানের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ বার্তা ছিল স্পষ্ট ও কঠোর। একইভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া অনেক হুমকিও ছিল স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।

ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের আগের দিন অনুষ্ঠিত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ট্রাম্পকে হত্যার বার্তা দিয়ে লেখা একটি ব্যানার দেখা যায়।

পরের সপ্তাহে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলের একটি চত্বরে একটি ভবনের গায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি বড় ম্যুরাল আঁকা হয়। সেখানে ট্রাম্পকে একটি কালো কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়। ম্যুরালটির নিচে লেখা ছিল, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’ এবং ‘রক্তের বদলে রক্ত’।

বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির স্ক্রিনশট

তবে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার আগের কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে খামেনির মৃত্যু এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের খবরের পর যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা ছিল স্পষ্ট।

ইরানিরা বলছে, এই যুদ্ধ এখনো শেষ হওয়ার অনেক বাকি। আর প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তুদের একজন হলেন স্বয়ং ট্রাম্প।

তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার যাত্রার শেষ পর্বে ট্রাম্প এবং তাঁর সফরসঙ্গী সাংবাদিকেরা আবার একই উড়োজাহাজে ওঠেন।

সে সময় সাংবাদিকেরা তাঁর কাছে ওই অস্বাভাবিক যাত্রা সম্পর্কে জানতে চান। যাত্রাটির অংশ হিসেবে আঙ্কারা থেকে উড্ডয়নের সময় সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্প যে উড়োজাহাজটি থেকে গোপনে নেমে গিয়েছিলেন, সেটির জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব সময়ই (খবরে) পড়ি, তাদের তালিকায় আমি এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।’

এরপর ট্রাম্প সাংবাদিকদের রসিকতার সুরে বলেন, ‘তবে আমি যদি (মারা) যাই, তাহলে আপনারাও যাবেন—তাই না?’