ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে: দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে ফোন করে ‘আলোচনা করতে চেয়েছেন’। গতকাল রোববার তিনি এ দাবি করেছেন।
ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বারবারই হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই গতকাল তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনার প্রস্তাব পাওয়ার দাবি করেছেন।
দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে ইরান। বিক্ষোভ দমাতে ব্যাপক ধরপাকড়ও চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এ বিক্ষোভ-সহিংসতা এখন একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতিতে’ রূপ নিচ্ছে।
মূলত জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ বিক্ষোভ ইতিমধ্যে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে চলমান ধর্মীয় নেতাদের শাসনব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
ইরানে কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও ইরান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিন রাত ধরে রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য শহর থেকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বড় বড় বিক্ষোভের ঘটনা দৃশ্যমান হচ্ছে।
বিক্ষোভে নিহত হওয়া মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার খবর যখন সামনে আসছে, মর্গের বাইরে মরদেহের স্তূপের ছবি প্রকাশ পাচ্ছে, তখন ট্রাম্প বললেন, তেহরান আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
গতকাল এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের নেতারা গতকাল ফোন করেছে। একটি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে…তারা আলোচনায় বসতে চায়।’
তবে তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকের আগে আমাদের পদক্ষেপ নিতেও হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান বলেছে, তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানতে পেরেছে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলেছে, তারা কমপক্ষে ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। তবে বাস্তব সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।
আইএইচআরের হিসাব অনুযায়ী, ২ হাজার ৬০০-এরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।