কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে ট্রাম্পের কাছে ক্ষমার নিশ্চয়তা চান এপস্টিনের বান্ধবী গিলেন

জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর একসময়ের বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েলফাইল ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তাঁকে ক্ষমা করে দেন, তবে কংগ্রসের সামনে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত আছেন গিলেন ম্যাক্সওয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের একসময়ের বান্ধবী ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের হয়ে কংগ্রেসকে এ কথা বলেছেন।

গিলেনকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য গতকাল সোমবার কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কংগ্রেসের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

ওই সময় তাঁর আইনজীবী বলেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী তাঁর দোষ স্বীকারে বাধ্য না হওয়ার অধিকার রয়েছে, গিলেন সে অধিকারের প্রয়োগ করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেন, তিনি বক্তব্য দিতে প্রস্তুত আছেন।

গিলেনের বয়স এখন ৬৪ বছর। যৌন–সংক্রান্ত মানব পাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি এখন ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন। এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে জবানবন্দি দিতে তাঁকে হাউস ওভারসাইট কমিটির মুখোমুখি করা হয়েছিল।

সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন–সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশের পর নতুন করে নানা কেলেঙ্কারির তথ্য জনসমক্ষে আসছে। এসব নথিতে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে।

ওভারসাইট কমিটির প্রকাশ করা ভিডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, টেক্সাসের একটি কারাগার থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে গিলেনকে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি সেখানে বসা এবং তাঁর সামনে থাকা টেবিলের দিকে চোখ নিচু করে তাকিয়ে আছেন।

এই সময় গিলেনকে তাঁর ও এপস্টিনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাঁরা ‘সুনজরে থাকতে’ এবং ‘নজরদারি এড়াতে’ সব সময় ধনী ও খ্যাতনামা ব্যক্তিদের ভিড়ে মিশে থাকতেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন
কয়েদির পোশাক পরা অবস্থায় কারাকক্ষে নিজের খাটে শুয়ে গিলেনকে বই পড়তে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ ভিডিওটি প্রকাশ করেছে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

গিলেনকে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘ট্রাম্প কি কখনো আপনি বা জেফরি এপস্টিনের পরিচয় করিয়ে দেওয়া কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন?’

সব প্রশ্নের উত্তরেরই গিলেন যন্ত্রের মতো বলে গেছেন, ‘আমি আমার সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অধিকার অনুযায়ী নীরব থাকার অধিকার প্রয়োগ করছি।’

শেষ পর্যন্ত কমিটি হাল ছেড়ে দেয় এবং তাদের প্রশ্নোত্তর প্রক্রিয়া আগেভাগেই শেষ করে।

এরপর গিলেনের আইনজীবী ডেভিড মার্কাস বলেন, যদি ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমার নিশ্চয়তা দেন, তবে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য প্রস্তুত।

এপস্টিনের এই সাবেক বন্ধবী বলেন, ‘যদি এই কমিটি এবং মার্কিন জনগণ কী ঘটেছিল, সেই প্রকৃত সত্য কোনো পরিমার্জন ছাড়াই শুনতে চান, তবে সরল একটি পথ খোলা আছে।’

বিবৃতিতে মার্কাস আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন—দুজনই একসময় এপস্টিনের বন্ধু ছিলেন এবং তাঁরা কোনো অপরাধ করেননি। কেবল গিলেনই ব্যাখ্যা দিতে পারেন, কেন এসব ঘটেছিল এবং মার্কিন জনগণের সেই ব্যাখ্যা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’

এপস্টিন–সংক্রান্ত মামলায় গিলেন ম্যাক্সওয়েল একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা পেয়েছেন। আদালত ২০২১ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ধনী ব্যক্তিদের কাছে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিভিন্ন তারকা, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক ও প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাঁর। বর্তমানে তিনি টেক্সাস কারাগারে বন্দী আছেন।

আরও পড়ুন