৩২ বছর বয়সী টিয়া স্পুডলসের বিশ্ব রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রের আমান্ডা বেথের বয়স তখন ২৩ বছর। তাঁর মা তাঁকে প্লাম-রঙা মাথাওয়ালা ছোট্ট সবুজ একটি টিয়া পাখি উপহার দেন। চঞ্চল স্বভাবের পাখিটি চিৎকার করে নিজের নাম বলত, ‘স্পুডলস’।
সালটি ছিল ১৯৯৭। স্পুডলসের নথিপত্র আর তার পায়ে থাকা ‘ লেগ ব্যান্ড’ অনুযায়ী, সেটির বয়স তখন ছিল তিন বছর। অল্প দিনের মধ্যেই আমান্ডা ও স্পুডলসের মধ্যে গভীর সখ্য গড়ে ওঠে। সেটি আমান্ডার কাঁধে উঠতে এবং আঙুলের ওপর বসে থাকতে শুরু করে। পাখিটি বিভিন্ন সুরে শিস দিতে পারে, মাইক্রোওয়েভের বিপ শব্দ হুবহু নকল করতে পারে।
যথাযথ পরিচর্যা পেলে খাঁচায় পালন করা টিয়া পাখি সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচে। স্পুডলস যে তার প্রায় দ্বিগুণ বয়স বেশি পাবে এবং তাঁর সঙ্গেই থেকে যাবে, এটা আমান্ডা বেথ কখনো কল্পনাও করেননি।
আমান্ডার সঙ্গে হেসে–.খেলে স্পুডলস দিব্যি ৩২ বছর পার করে ফেলেছে। গত ২৮ মার্চ ৩২ বছর ৮৬ দিন বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত টিয়া পাখির স্বীকৃতিও পেয়ে গেছে। ২৬ জুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে এ খবর প্রকাশ পায়। আমান্ডা ও তাঁর পরিবার দারুণ আনন্দের সঙ্গে দিনটি উদ্যাপন করেছে।
স্পুডলসের আগের মালিক সেটিকে কথা বলতে শিখিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই পাখিটি ভীষণ বাচাল। সে ‘প্রিটি বার্ড’, ‘গিভ মি কিসি’ এবং ‘আ-ছু! গুডনেস’ বলে চিৎকার করত।
তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্পুডলস অনেকটাই শান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিদিন সকালে ‘প্রিটি বার্ড’ বলা সে থামায়নি। পাখিটি প্রিটি বার্ড বলে দিন শুরু করে এবং খাঁচার ওপরের কাপড় না সরানো পর্যন্ত লাজুক ভঙ্গিতে মাইক্রোওয়েভের ‘বিপ’ শব্দের মতো ডাকতে থাকে।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বয়সী টিয়া পাখি হওয়ার রেকর্ড গড়লেও সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বয়সী টিয়া পাখি হতে হলে স্পুডলসকে আরও বহু বছর বেঁচে থাকতে হবে। এ রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ‘কুকি’র দখলে। মেজর মিচেলের ওই পাখি ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট মারা যাওয়ার সময় সেটির বয়স ছিল অন্তত ৮২ বছর ৮৮ দিন।