সির সঙ্গে ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে, জানালেন ট্রাম্প

বৈঠকে দুই নেতা নিজেদের বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে আলোচনা করেন।

লালগালিচায় হাঁটছেন (বাঁ থেকে) চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজেছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে বৈঠক হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, সির সঙ্গে তাঁর ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন দুই নেতা।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সি চিন পিং ট্রাম্পকে বলেছেন, চীন আশা করে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ বিরোধিতা করবে। তাইওয়ান প্রশ্নে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ বলেও উল্লেখ করেন সি।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। বৈঠকের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।

হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। ২৪ সেপ্টেম্বর
ছবি: এএফপি

এর আগে সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ান গত বুধবার সন্ধ্যায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। ওয়াশিংটন ডিসির পার্শ্ববর্তী মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাঁদের স্বাগত জানান ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ১১ বছর পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সামরিক ঘাঁটিতে গিয়ে কোনো বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানালেন। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে স্বাগত জানানোর সময় কিছু নথি হাতে তুলে নেন। সি চিন পিং ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর করছেন
ছবি: এএফপি

বাণিজ্যে সমঝোতার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে ১১ মাস আগে একটি চুক্তি করেছিল। সেটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও সির মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে আলোচনায় চুক্তিটির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন তাঁরা।

কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং চীনের ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এআই নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সামরিক সক্ষমতার ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়ে দুই দেশই উদ্বিগ্ন। এ প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও দুই দেশের উদ্বেগ রয়েছে।

সি বৈঠকে ট্রাম্পকে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দুই দেশ হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। এআইকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের পাশাপাশি এর বিকাশ যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা বেইজিং ও ওয়াশিংটনকে নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, এআই বা তাঁর ভাষায় ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হবে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এআই নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কোনো বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৈঠকের শুরুতে সি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িত। দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখা, পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া বাড়ানো এবং সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পক্ষেও মত দেন সি।

ইরান নিয়ে আলোচনা

সিনহুয়া জানিয়েছে, সি চান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত জুনে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তে ফিরে যাক। ওই সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। ১৭ জুন সই হওয়া সমঝোতা কয়েক দিনের মধ্যেই ভেস্তে যায়। এরপর পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলেও জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনের ফাঁকে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।