ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়া নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই, সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এ যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি যদি আবার ওই পরিস্থিতির মুখোমুখি হই বা কাজটি আবার করার সুযোগ পাই, তবে আমি ঠিক একইভাবে করব।’ অর্থাৎ তিনি আগে যা করেছেন, তা নিয়ে তাঁর অনুশোচনা বা আফসোস নেই এবং তিনি তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্ত ও কাজের প্রতি শতভাগ অটল ও আত্মবিশ্বাসী।
ইরানের যুদ্ধ নিয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কি না এবং এর কারণে নির্বাচনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, ফক্স নিউজের সঞ্চালক লরা ইনগ্রাহামের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রচারিত ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল শো’ অনুষ্ঠানের ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি “অনুশোচনা” শব্দটিতে বিশ্বাস করি না। মানুষ হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটু-আধটু ভেবে দেখা বা চিন্তা করা স্বাভাবিক।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাকে যদি আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতে হতো, আমি যা করেছি, ঠিক সেটিই করতাম।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য এক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের কিছু সমর্থক হতাশ ও মনোবল হারিয়েছেন, এমন ধারণাও নাকচ করে দেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁর সমর্থকেরা গর্বিত।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না, তাঁরা হতাশ। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা গর্বিত বলেই আমি মনে করি।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই শেষ হবে বলে আবারও দাবি করেছেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই এটি শেষ হয়ে যাবে।’
গত বুধবারও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসে তাঁর রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নির্ধারণ করবে যে নির্বাচন, তেহরান সেটিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
আমি ‘অনুশোচনা’ শব্দটিতে বিশ্বাস করি না। মানুষ হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটু-আধটু ভেবে দেখা বা চিন্তা করা স্বাভাবিক।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য এক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন দেশগুলোয় হামলা চালায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করাকে যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই। দেশটি বলে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ।