ওয়াশিংটনে হোটেলের সামনে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভ, নৈশভোজ করছিলেন নেতানিয়াহু

হোয়াইট হাউসে ঢুকছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র। ২৮ জুলাই ২০২৬ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবস্থান করা হোটেলের সামনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তিনি সে সময় হোটেলে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন।

গত সোমবার জর্জটাউনের ফোর সিজনস হোটেলের লবিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ঢুকে পড়লে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি নেতা যে রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, সেখানে যাওয়ার চেষ্টা চালান।

এ সময় নিরাপত্তারক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ভবন থেকে বের করে দেন। ভবনটি থেকে বের করার সময় বিক্ষোভকারীরা ‘বিবি, বিবি, তুমি লুকাতে পারো না। তুমি জাতিগত নিধন চালাচ্ছ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। এই সফরে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

হোটেলে এ ঘটনার পরপরই পুরো ওয়াশিংটনজুড়ে রাজপথে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় শত শত বিক্ষোভকারী হোয়াইট হাউস ও সরকারের অন্যান্য প্রশাসনিক ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রয়াত মার্কিন সিনেটর (রিপাবলিকান) লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে আয়োজিত নৈশভোজে লেবাননের ব্যাংকার আন্তুন সেহনাউইয়ের সামনের আসনে বসে আছেন সারা নেতানিয়াহু। ২৭ জুলাই ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

‘নেতানিয়াহুর জায়গা হেগের আদালতে’

বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান এবং ড্রাম ও বালতি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান। নেতানিয়াহুর সফরের বিরোধিতা করে তাঁদের হাতে নানা ব্যানারও দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা মেগাফোন ব্যবহার করে তাঁদের বিরোধিতার কথা জানান। সফররত ইসরায়েলি যুদ্ধবাজ নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তাঁরা মার্কিন সরকারের কাছে দাবি জানান।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

এক বিক্ষোভকারী জোর দিয়ে বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর একমাত্র জায়গা হলো আইসিসির কারাগার। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। আমি চাই না আমার ট্যাক্সের (করের) অর্থে এ ধরনের কাউকে রক্ষা করা হোক।’

আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, মার্কিন সরকার যেন আইসিসির পরোয়ানা অনুসরণ করে এবং নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে আইসিসির হাতে তুলে দেয়। যাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগে তাঁর বিচার করা যায়।’

ওয়াশিংটনের ওই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা ‘মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধযন্ত্র বন্ধ করো’ এবং ‘ওয়াশিংটনের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ফাঁস করো’ লেখা ব্যানারও প্রদর্শন করেন।