ওপেনএআই নামের প্রতিষ্ঠানটিতে বিশাল বিনিয়োগ করে রেখেছে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। এই চ্যাটবটকে সাধারণ নির্দেশ দিলেই দ্রুত টেক্সট আকারে এর উত্তর দিতে পারে।

চ্যাটজিপিটে এতটাই গোছালো ও দারুণভাবে উত্তর উপস্থাপন করতে পারে, যা দেখে শিক্ষাবিদেরা উদ্বেগে রয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতারণা হতে পারে। শিক্ষাবিদেরা আশঙ্কা করছেন, জিপিটি চ্যাটবটের মতো সফটওয়্যারের ব্যবহারে প্রচলিত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাপদ্ধতি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মিনেসোটা ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক জোনাথন চই শিক্ষার্থীদের যেসব প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নই চ্যাট জিপিটিকে দেন। এর মধ্যে ছিল ৯৫টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও ১২টি প্রবন্ধের প্রশ্ন।

এ নিয়ে গত সোমবার ‘চ্যাটজিপিটি গোজ টু ল স্কুল’ নামের একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক চই। তিনি ও তাঁর সহলেখকেরা দাবি করেছেন, পরীক্ষায় ওপেনএআইয়ের চ্যাটবটটি সি প্লাস স্কোর করেছে যা পরীক্ষায় পাসের চেয়ে বেশি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফলাফল নিচের সারিতে থাকলেও গণিতযুক্ত বহুনির্বাচনীতে অনেক ভালো ফল করেছে।

শ্বেতপত্রের লেখকেরা বলছেন, প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে সাধারণ আইনি প্রক্রিয়াগুলো ও প্রতিষ্ঠানিক নিয়ম সম্পর্কে ভালো লিখেছে সফটওয়্যারটি। তবে আইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত উন্মুক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে সমস্যা হয়েছে। নিউইয়র্কের বিচার বিভাগ ও কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তবে অধ্যাপক চই বলেন, শিক্ষাসহায়ক হিসেবে এ সফটওয়্যার গুরুত্বপূর্ণ সহকারী হতে পারে। তবে তিনি টুইটারে লেখেন, একা চ্যাটজিপিটিকে আইনি শিক্ষার্থী হিসেবে ভালো বলা যাবে না। তবে মানুষের সহযোগিতায় চ্যাটজিপিটির মতো ভাষার মডেলগুলো আইনের শিক্ষার্থী ও আইনজীবীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।