সিনেট কি এবার তাহলে ডেমোক্র্যাটদের দখলে যেতে পারে, ঠিক করে দেবে এই ১০ আসন
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর প্রায় চার সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যে সিনেটের লড়াইয়ের মানচিত্র বড় হতে শুরু করেছে। রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের উন্নতির আভাস মিলছে।
প্রতিবছর ‘দলীয় হাতবদলের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকা সিনেট আসনের’ তালিকা করে সিএনএন। এ তালিকায় চলতি বছর প্রথমবারের মতো আসন ৯টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে যোগ হয়েছে কানসাস। অঙ্গরাজ্যটি ৯৪ বছর ধরে কোনো ডেমোক্র্যাটকে সিনেটে পাঠায়নি।
নতুন একাধিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ওহাইও, আলাস্কা ও টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছেন কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। কানসাসসহ এই চার অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা চারটি আসন নিজেদের করে নিতে হবে ডেমোক্র্যাটদের। একই সঙ্গে মিশিগানসহ নিজেদের তিনটি আসনও ধরে রাখতে হবে।
সিএনএনের ‘পোল অব পোলস’ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার এখন ৩৪ শতাংশ। অর্থনীতি ও ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর শুরু করা যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের মধ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সিএনএনের ‘পোল অব পোলস’ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার এখন ৩৪ শতাংশ। অর্থনীতি ও ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর শুরু করা যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের মধ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর বিভিন্ন বিশেষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। আগাম ভোটেও তুলনামূলক বেশি ভোটার অংশগ্রহণের প্রাথমিক আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পথচলা শুরু এখনই
রিপাবলিকানদের বিপুল নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।
বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১০টি সিনেট নির্বাচনের ৮টিতেই বিজ্ঞাপনে ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে যাচ্ছে রিপাবলিকানরা।
তবে এই সুবিধার প্রভাব কিছুটা কমে যেতে পারে। কারণ, রিপাবলিকান-সমর্থিত বাইরের সংগঠনগুলোকে একই পরিমাণ দর্শকের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছাতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারশিবিরের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
নভেম্বরে কোন আসনগুলোর দলীয় হাতবদলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সিএনএনের এ তালিকা তৈরিতে নিজস্ব প্রতিবেদনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সিনেট নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কৌশলবিদদের সঙ্গে কথোপকথনের পাশাপাশি প্রার্থীদের তহবিল সংগ্রহ, জনমত জরিপ এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের দলীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তালিকাটি এই মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলো কোন অবস্থায় আছে, তার একটি চিত্রমাত্র। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার শেষ মাসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্রম বদলে যেতে পারে।
১. নর্থ ক্যারোলাইনা
এ বছর বর্তমান সিনেটর থাকা ব্যক্তিদের বদলের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকা অঙ্গরাজ্য হিসেবে নর্থ ক্যারোলাইনা এখনো শীর্ষে।
ডেমোক্র্যাটদের সাবেক গভর্নর রয় কুপার তাঁর নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান ইস্যু করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির তুলনায় তিনি শক্ত অবস্থানে আছেন। হোয়াটলি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং ট্রাম্পের মিত্র। তিনি সিনেটর থম টিলিসের জায়গা নিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১০টি সিনেট নির্বাচনের ৮টিতেই বিজ্ঞাপনে ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে যাচ্ছে রিপাবলিকানরা।
গত মাসে প্রকাশিত ইলন ইউনিভার্সিটি/ইউগভের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে হোয়াটলির চেয়ে কুপার ১১ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন।
রিপাবলিকানদের বাইরের নির্বাচনী ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন সিনেট লিডারশিপ ফান্ড সেখানে বিজ্ঞাপন প্রচার স্থগিত করছে। অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে রিপাবলিকান-সমর্থিত বাইরের সংগঠনগুলো তাদের অবশিষ্ট বিজ্ঞাপন বুকিং থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি কমিয়েছে।
তারপরও গত মাসে নর্থ ক্যারোলাইনায় হোয়াটলির সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যে অঙ্গরাজ্যে তিনি তিনবার জয় পেয়েছেন, সেখানে নিজের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতেই ছিল এই উদ্যোগ।
২. ওহাইও
তালিকায় দুই ধাপ ওপরে উঠে এসেছে ওহাইও। এর পেছনে বড় কারণ সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউনের শক্ত অবস্থান।
দুই বছর আগে চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ে চার পয়েন্টের কম ব্যবধানে হেরেছিলেন ব্রাউন। এবার অধিকাংশ জরিপে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের চেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সম্ভাব্য ভোটারদের নিয়ে করা নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপে অবশ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে আসে। ব্রাউনের সমর্থন ছিল ৪৯ শতাংশ, হাস্টেডের ৪৬ শতাংশ।
অন্যদিকে গত মাসে ওহাইওর নিবন্ধিত ভোটারদের নিয়ে করা ম্যারিস্টের জরিপে হাস্টেডের চেয়ে ব্রাউন ৪ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপে হাস্টেডকে ইতিবাচকভাবে দেখেন ৩৭ শতাংশ ভোটার। ব্রাউনের ক্ষেত্রে হারটি ৪৬ শতাংশ।
এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো, ওহাইওর অনেক ভোটারের কাছে হাস্টেডের তুলনায় ব্রাউন অনেক দিন ধরে পরিচিত। সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর হাস্টেডকে গত বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে দেওয়া সিনেট আসনে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন।
ডেটা সেন্টার নিয়ে হাস্টেডের বিরুদ্ধে ব্রাউনের আক্রমণ বিশেষভাবে কার্যকর হয়েছে। তিনি হাস্টেডকে বলেছেন, ‘ওহাইওতে ডেটা সেন্টারের মুখ’। ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচার পরিচালনাকারী সংগঠনও সতর্ক করেছে, বিষয়টি হাস্টেডের প্রচারের জন্য একটি ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেটা সেন্টারের কারণে জ্বালানি ব্যয় নিয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশসংবলিত হাস্টেডের একটি বিল গত সপ্তাহে সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা আটকে দেন।
গত শনিবার হাস্টেডের পক্ষে প্রচারে গিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ওহাইওর ডেটা সেন্টারগুলোর পক্ষে কথা বলেন ট্রাম্প। দীর্ঘদিন ধরেই ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিত রাখার বিরোধিতা করে আসছেন তিনি।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ব্রাউনের প্রচারশিবিরের আলোচিত একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ভোটারদের অশালীন শব্দ ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী মানুষ ‘বাস্তব জগতে চলাফেরায় খুব বেশি অভিজ্ঞ নন’-হাস্টেডের অতীতের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা ওই ভাষা ব্যবহার করেন। টেলিভিশনে অবশ্য বিজ্ঞাপনটির অশালীন শব্দমুক্ত সংস্করণ প্রচার করছে ব্রাউনের প্রচারশিবির।
রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের কৌশল অনুসরণ করে ট্রান্সজেন্ডার রাজনীতির প্রশ্নে ব্রাউনকে আক্রমণ করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। তাঁদের আশা, এতে অঙ্গরাজ্যের ভোটের সমীকরণ বদলাবে।
অক্টোবরের শুরু থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ওহাইওতে রিপাবলিকান সংগঠনগুলো ৮ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করতে যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা বরাদ্দ রেখেছে ৫ কোটি ডলারের বেশি।
জবাবে ব্রাউনও একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। সেখানে ভোটারদের বলতে দেখা যায়, ট্রান্সজেন্ডার নীতির বিষয়ে ওহাইওতে ইতিমধ্যে আইন রয়েছে। তাঁরা চান, প্রার্থীরা অন্য বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিন।
নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে বড় একটি প্রশ্ন হলো, রিপাবলিকানদের বিপুল ব্যয় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও হাড্ডাহাড্ডি করতে পারবে কি না।
অক্টোবরের শুরু থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সেখানে রিপাবলিকান সংগঠনগুলো ৮ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করতে যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা বরাদ্দ রেখেছে ৫ কোটি ডলারের বেশি।
৩. আলাস্কা
এবার দুই ধাপ ওপরে উঠে এসেছে আলাস্কা। বিশাল আয়তনের এই অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ করা বেশ কঠিন বলে পরিচিত। তবে গত শনিবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সালিভানের চেয়ে ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা সাত পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। পেলটোলার সমর্থন ৫০ শতাংশ, সালিভানের ৪৩ শতাংশ।
নভেম্বরের নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে ‘র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতিতে। সিনেটর সালিভান ও পেলটোলার পাশাপাশি আরও দুজন ব্যালটে থাকবেন। তাঁদের একজন রিপাবলিকান প্রার্থী, তাঁর নামও ড্যান সালিভান। তিনি সাবেক স্কুলশিক্ষক।
একই নামের দুই প্রার্থীকে ভোটাররা গুলিয়ে ফেলতে পারেন-নভেম্বরের নির্বাচনের আগে বিষয়টি রিপাবলিকানদের উদ্বেগের কারণ হয়েছে।
সাবেক কংগ্রেস সদস্য পেলটোলাকে এবারের নির্বাচনে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী মনে করেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মতো জাতীয় পর্যায়ের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব রেখেছেন তিনি। এমন সময়ে এটি করছেন, যখন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ‘লোয়ার-৪৮ লিবারেলদের’ সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আলাস্কা এলএনজি পাইপলাইন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ তুলে ধরতে ওভাল অফিসে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সালিভান।
পেলটোলাও দ্রুত প্রেসিডেন্টের ঘোষণার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ‘দলমত-নির্বিশেষে এই কাজ অব্যাহত রাখার’ অপেক্ষায় আছেন।
গত মাসে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের পর সহকারীদের সঙ্গে পেলটোলার আচরণ ও তাঁর অশালীন ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি নজরদারির মধ্যে আসে। প্রতিবেদনে তাঁর কয়েকজন সাবেক সহকারী বৈরী আচরণের অভিযোগ করেছিলেন।
পেলটোলার প্রচারশিবির নিয়মিত নিপীড়নমূলক আচরণের কোনো ধারা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে তারা স্বীকার করেছে, ২০২৩ সালে মা ও স্বামীর মৃত্যুর ধাক্কা সামলাতে কখনো কখনো হিমশিম খেয়েছেন পেলটোলা।
আলাস্কার অন্য রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাওস্কিও পেলটোলার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি পেলটোলার ব্যক্তিগত সংগ্রামের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
৪. মেইন
তালিকায় দুই ধাপ নিচে নেমেছে মেইন। তবে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের লড়াই এখনো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এই সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বিতর্কে মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
গত মাসে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের জরিপে মেইনের সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে কলিন্সের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিলেন জ্যাকসন-৫১ শতাংশ বনাম ৪৭ শতাংশ।
অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এগিয়ে দেখানো এটিই প্রথম প্রকাশ্য জরিপ।
তবে এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের জরিপ এবং নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার জরিপসহ সাম্প্রতিক অন্য জরিপগুলোতে স্পষ্ট কোনো অগ্রগামী প্রার্থী পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালে মেইনে হ্যারিস সাত পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। ফলে কলিন্স এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।
জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে ভোটারদের ধারণার চেয়ে মেইনের এই সিনেটর ও ট্রাম্প সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাবই নির্বাচনী লড়াইয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।
শুল্ক ও ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়ে কলিন্স ট্রাম্পের বিপরীতে নিজস্ব অবস্থান নিলেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ভোটে প্রেসিডেন্টের পক্ষে থাকার জন্য তাঁকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন ডেমোক্র্যাটরা।
ডেমোক্র্যাটরা প্রোপাবলিকার একটি প্রতিবেদনও সামনে এনেছেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার একটি ব্যবস্থায় কলিন্সের কার্যালয় জড়িত ছিল।
কলিন্স অভিযোগটি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ’ বলেছেন।
আগেও কঠিন পুনর্নির্বাচনী লড়াই পার হয়েছেন কলিন্স। রিপাবলিকানরা তাই মেইনের জন্য তিনি কী কী করেছেন, তা ভোটারদের মনে করিয়ে দিতে জোর দিচ্ছেন।
মেইন সিনেটের সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকসনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজ্ঞাপনে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করেছে রিপাবলিকান সংগঠনগুলো। করনীতি নিয়েও ডেমোক্র্যাট এই প্রার্থীকে আক্রমণ করে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে ১০ দিনের মধ্যে চারটি বিতর্কে মুখোমুখি হবেন কলিন্স ও জ্যাকসন।
৫. টেক্সাস
তালিকায় দুই ধাপ ওপরে উঠেছে টেক্সাস। ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো প্রত্যাশার চেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে রক্ষা করতে নয় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের এক বিশাল অভিযানে নেমেছে রিপাবলিকানরা।
ডেমোক্র্যাটদের বিশ্বাস, তালারিকোর বিস্তৃত গ্রহণযোগ্যতা, প্যাক্সটনের বিভিন্ন কেলেঙ্কারি নিয়ে অস্বস্তি এবং লাতিনো ভোটারদের বাম দিকে ঝোঁকার সমন্বয়ে গত তিন দশকের মধ্যে টেক্সাসকে ডেমোক্র্যাটদের দিকে নেওয়ার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ নয় দিনে করা নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে প্যাক্সটনের চেয়ে তালারিকো ছয় পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন-৫১ শতাংশ বনাম ৪৫ শতাংশ।
অন্যদিকে গত সপ্তাহে প্রকাশিত ফক্স নিউজের জরিপে স্পষ্ট কোনো অগ্রগামী প্রার্থী পাওয়া যায়নি। তালারিকোর সমর্থন ছিল ৫১ শতাংশ, প্যাক্সটনের ৪৯ শতাংশ।
মে মাসে কর্নিনের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদেরসহ অনুগত রিপাবলিকান ভোটারদের নভেম্বরে ভোট দিতে আনতে হবে প্যাক্সটনকে।
দলীয় সমর্থকদের সক্রিয় করতে নিজের ভূমিকা রাখছেন ট্রাম্প। তিনি প্যাক্সটনকে রক্ষণশীল যোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চেহারা নিয়েও ঠাট্টা করছেন।
গত বৃহস্পতিবার ডেনটনে এক অনুষ্ঠানের পর বুধবার সমাবেশ করতে আবার সান আন্তোনিওতে যাবেন ট্রাম্প। এক সপ্তাহে এটি হবে অঙ্গরাজ্যটিতে তাঁর দ্বিতীয় সফর।
প্রচারের শেষ মাসে অবশিষ্ট বিজ্ঞাপন বুকিংয়ে বর্তমানে রিপাবলিকানদের ব্যয়ের সুবিধা প্রায় ৮:১। তাঁদের প্রায় ৭ কোটি ডলারের বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের ব্যয় ৯০ লাখ ডলার।
তবে নর্থ ক্যারোলাইনার মতো এখানেও রিপাবলিকানরা বাইরের সংগঠনের ওপর নির্ভর করছে। নির্বাচনী চক্রের শেষ দিকে এসে তাঁরা বিজ্ঞাপনের বড় অংশ বুক করেছেন। এ সময় বিজ্ঞাপনের জায়গা সীমিত হয়ে যাওয়ায় তাঁদের বাড়তি মূল্য দিতে হচ্ছে।
৬. মিশিগান
এবার তিন ধাপ নিচে নেমেছে মিশিগান। ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সায়েদ এবং সাবেক কংগ্রেস সদস্য রিপাবলিকান মাইক রজার্সের লড়াই এখনো এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হাতে থাকা অল্প কয়েকটি আক্রমণাত্মক সুযোগের একটি।
২০২৪ সালে সিনেটর এলিসা স্লটকিনের কাছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ব্যবধানে হেরেছিলেন রজার্স।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত নিবন্ধিত ভোটারদের ওপর ম্যারিস্টের জরিপে রজার্সের চেয়ে আল-সায়েদ ৭ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন-৫১ শতাংশ বনাম ৪৪ শতাংশ।
তবে সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য ভোটারদের নিয়ে করা সব জরিপে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কোনো জরিপেই স্পষ্ট অগ্রগামী প্রার্থী পাওয়া যায়নি। বুধবার প্রকাশিত ফক্স নিউজের সর্বশেষ জরিপও এর মধ্যে রয়েছে।
এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ব্যয়ের সুবিধা বড় একটি বিষয়। এটি নির্বাচনের দিন পর্যন্ত লড়াইকে হাড্ডাহাড্ডি রাখতে পারে।
অক্টোবরে রিপাবলিকানরা ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করতে যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিজ্ঞাপন বুক করেছে।
আল-সায়েদকে মূলধারার বাইরের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন রিপাবলিকানরা। একের পর এক বিজ্ঞাপনে এই ডেমোক্র্যাটকে ‘বিপজ্জনক’ও ‘উগ্র’ বলা হচ্ছে।
রজার্সপন্থী একটি সংগঠনের বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘মিশিগানের জন্য তিনি খুবই উগ্র, আর আপনার ভোট তাঁকে থামাতে পারে।’
তবে ট্রাম্পকে নিয়ে হতাশা এবং অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ রজার্সের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে। শুল্ক ও ইরান যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া গ্যাসের দামের বড় ধাক্কা লেগেছে অঙ্গরাজ্যটিতে।
ফক্স নিউজের জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন সম্ভাব্য ভোটারের ৬ জন প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। প্রতি ১০ জনে ৭ জন জীবনযাত্রার ব্যয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন।
একই জরিপে ৩৯ শতাংশ ভোটার রজার্সের ট্রাম্পের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে ৩৬ শতাংশ মনে করেন, আল-সায়েদের অবস্থান অতিরিক্ত উদারপন্থী।
ইরান প্রশ্নে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স। দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকায় দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেই সংঘাত শুরুর সময় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিলেন রজার্স।
রজার্সের কৌশলের সাফল্য নির্ভর করছে অসন্তুষ্ট ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের নিজের দিকে টানার ওপর। একই সঙ্গে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদেরও ভোট দিতে আনতে হবে তাঁকে। ট্রাম্প নিজে ব্যালটে না থাকা নির্বাচনে এই ভোটাররা তুলনামূলক কম নির্ভরযোগ্য।
অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন বৃদ্ধি করতে সম্প্রতি হ্যারিসের সঙ্গে হাজির হন আল-সায়েদ। তাঁদের মধ্যে এমন ভোটারও আছেন, যাঁরা মনে করেন, ইসরায়েল ও গাজা নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন ২০২৪ সালে হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের ক্ষতি করেছিল।
ইহুদি ডেমোক্র্যাটদের একাংশের মধ্যে আল-সায়েদকে নিয়ে এখনো কিছু সংশয় রয়েছে। তারপরও মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেলের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে পরিচিত ইহুদি কর্মকর্তাদের একজন নেসেল।
গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো বিতর্কে মুখোমুখি হবেন আল-সায়েদ ও রজার্স।
৭. আইওয়া
আইওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইটি তালিকায় এক ধাপ ওপরে উঠেছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত সম্ভাব্য ভোটারদের ওপর দুটি জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক এবং রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য অ্যাশলি হিনসনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
কৃষিনির্ভর এই অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। এসব কারণে কৃষিযন্ত্র, সার ও ডিজেলের দামে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
ফক্স নিউজের জরিপ অনুযায়ী, আইওয়ায় ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৪২ শতাংশ। টুরেকের অবস্থান অতিরিক্ত উদারপন্থী-এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সম্ভাব্য ভোটারের হার ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে হিনসন ট্রাম্পের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ-এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ৫২ শতাংশ।
হিনসনকে সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন টুরেক। সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনে অঙ্গরাজ্যে গ্যাসের উচ্চমূল্যের সঙ্গে হিনসনের ভোটের সম্পর্কও টেনেছেন তিনি।
আইওয়ায় প্রতিনিধি পরিষদের তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনও রয়েছে। পাশাপাশি গভর্নর পদেও নির্বাচন হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের বিশ্বাস, অঙ্গরাজ্যের নিরীক্ষক রব স্যান্ডের পদটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ রয়েছে। সেটি হলে টুরেকসহ ব্যালটে থাকা অন্য ডেমোক্র্যাটদেরও সুবিধা হতে পারে।
মিশিগানে রজার্সের মতো হিনসনও ইরান যুদ্ধ থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছেন। দ্রব্যমূল্য কমাতে অবিলম্বে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গরুর মাংস আমদানি নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট যখন ওভাল অফিসে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের একটি ইস্পাত কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তখন তাঁর পাশেই ছিলেন হিনসন।
কারখানাটি স্থায়ীভাবে ১ হাজার ৭৫০টি এবং সাময়িকভাবে আরও কয়েক হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। তবে এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আইওয়ার দুই দলের মানুষের মধ্যেই কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে।
হিনসনকে জয়ী করতে অঙ্গরাজ্যটিতে আরও অর্থ ঢালছে রিপাবলিকানরা।
রিপাবলিকান-সমর্থিত সিনেট লিডারশিপ ফান্ড অক্টোবর মাসে বিজ্ঞাপন ব্যয় আরও ২ কোটি ডলার বাড়িয়েছে। প্রচারের শেষ সপ্তাহগুলোতেও অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়ের পথে রয়েছে রিপাবলিকানরা।
৮. নিউ হ্যাম্পশায়ার
তালিকায় দুই ধাপ নিচে নেমেছে নিউ হ্যাম্পশায়ার। তবে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ক্রিস পাপাস এবং রিপাবলিকান সাবেক সিনেটর জন সুনুনুর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই ডেমোক্র্যাটদের সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।
সেপ্টেম্বরে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে সুনুনুর চেয়ে পাপাস ৮ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন।
তবে প্রায় একই সময়ে করা নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার জরিপে স্পষ্ট কোনো অগ্রগামী প্রার্থী পাওয়া যায়নি।
ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করেন, তাঁদের ভোটার ও স্বতন্ত্ররা পাপাসের পক্ষ নেবেন। ২০২৪ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন হ্যারিস।
তবে পাপাস নিজেও সতর্ক করেছেন, তাঁর দলকে নিউ হ্যাম্পশায়ারকে আরও বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ভোটারদের কাছে সুনুনু নামটি অত্যন্ত পরিচিত। জন সুনুনুর ভাই ও বাবা-দুজনই অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ছিলেন।
ব্যালটে ঠিক কোন সুনুনু আছেন, সেটি ভোটারদের মনে করিয়ে দিতে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করছেন ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি তাঁর লবিং-সংশ্লিষ্ট অতীত নিয়েও আক্রমণ করছেন তাঁরা।
রিপাবলিকান কৌশলবিদেরা মনে করছেন, পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে জরিপে এগিয়ে থাকা রিপাবলিকান গভর্নর কেলি আয়োট নভেম্বরে সুনুনুকেও কিছুটা সুবিধা দিতে পারেন।
তবে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ভোটাররা একই নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য পরিচিত। রিপাবলিকানদের জন্য সামগ্রিক পরিবেশ এখনো কঠিন।
৯. কানসাস
এবারই প্রথম এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কানসাস। মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে অঙ্গরাজ্যটি রিপাবলিকানদের জন্য নতুন মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে।
মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটন একসময় রিপাবলিকান ছিলেন, পরে ডেমোক্র্যাট হয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতা অঙ্গরাজ্যটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
কানসাসের সম্ভাব্য ভোটারদের ওপর নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার জরিপে হ্যামিলটন ও দ্বিতীয় মেয়াদে লড়তে থাকা রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের মধ্যে সমতা দেখা গেছে।
২০২০ সালে নিজের প্রথম সিনেট নির্বাচনে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন মার্শাল। ২০২৪ সালে কানসাসে ট্রাম্প জয় পেয়েছিলেন ১৬ পয়েন্টের ব্যবধানে।
এখন মার্শালকে রক্ষা করতে বিজ্ঞাপনে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করতে হবে রিপাবলিকান-সমর্থিত সিনেট লিডারশিপ ফান্ডকে।
পেশায় প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ মার্শাল চিকিৎসা-ঋণসংক্রান্ত মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগিয়েছে হ্যামিলটন শিবির। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্শাল। গত মাসে এক বিতর্কে ওই প্রতিবেদনকে তিনি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ’ বলেন। তাঁর দাবি, তিনি ‘ব্যবসার প্রচলিত রীতি’ অনুসরণ করেছেন।
দেশজুড়ে রিপাবলিকানদের ওপর চাপ তৈরি করা ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট একই প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন মার্শাল। শুল্ক ও জ্বালানি ব্যয় কানসাস ও আইওয়ার কৃষকদের ওপর একইভাবে আঘাত করছে।
প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন মার্শাল। গত মাসে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইকে (যা আইস নামে পরিচিত) ‘স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যাপক বিঘ্ন’ ঘটানোর জন্য তিরস্কার করেন তিনি।
অন্যদিকে দল পরিবর্তনের বিষয়টিকেই বিস্তৃত ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর হাতিয়ার করছেন হ্যামিলটন। ওয়াশিংটনের ‘অকার্যকারিতা’ থেকে নিজেকে আলাদা হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।
গত মাসে তাঁর একটি প্রধান বিজ্ঞাপনে হ্যামিলটন বলেন, ‘মাঝামাঝি জায়গায় এসে মিলিত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের ভেঙে পড়া রাজনীতি ঠিক করতে হবে।’
হ্যামিলটন আরও বলেন, ‘ভিন্ন কিছু করার সময় এসেছে।’
গত সপ্তাহেই কানসাসের সাবেক রিপাবলিকান গভর্নর মাইক হেইডেন মার্শালের বদলে হ্যামিলটনকে সমর্থন দেন। এ নিয়ে অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় সাবেক রিপাবলিকান গভর্নর হ্যামিলটনের পক্ষে দাঁড়ালেন।
এক মতামত নিবন্ধে হেইডেন লিখেছেন, ‘আমি আগে রজার মার্শালকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু সিনেটে তাঁর সময় তিনি কানসাসের মানুষের চেয়ে দল ও রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।’
হেইডেন আরও লিখেছেন, ‘পরিবর্তনের সময় এসেছে।’
১০. জর্জিয়া
রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য মাইক কলিন্সের বিপক্ষে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফকে শক্ত অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।
ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের নথি অনুযায়ী, জুনের শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থীর প্রধান প্রচার কমিটির হিসাবে কলিন্সের চেয়ে অনেক বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন অসফ। তাঁর সংগ্রহ ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। কলিন্সের ৬৫ লাখ ডলার।
প্রচারের শেষ মাসে ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্যভাবে বিজ্ঞাপন ব্যয়ে এগিয়ে থাকবে—এমন একমাত্র সিনেট নির্বাচনও এটি।
ডেমোক্র্যাটদের ব্যয় হতে যাচ্ছে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, রিপাবলিকানদের ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
রিপাবলিকানরা এই নির্বাচনে বিপুল সম্পদ ঢালতে কিছুটা সতর্ক বলে মনে হচ্ছে। ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বিপরীত চিত্র।
দুই দলের কৌশলবিদেরাই জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। রিপাবলিকানদের আশা, তাঁদের প্রার্থী রিক জ্যাকসন কলিন্সকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারবেন।
অন্যদিকে জর্জিয়াজুড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থান শক্ত করতেও জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন অসফ। তাঁদের মধ্যে গভর্নর প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমসও রয়েছেন।