কানাডার ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক বাতিলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে ক্যাপিটল ভবনরয়টার্স ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ কানাডার পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

২১৯–২১১ ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে ছয়জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও সমর্থন জানিয়েছেন। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো গত বছর ট্রাম্প কানাডার ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা প্রত্যাহার করা।

আপাতত এ অনুমোদন প্রতীকীই থেকে যাচ্ছে। কারণ, প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটেও পাস হতে হবে। এরপর এটিকে আইনে পরিণত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। তবে প্রস্তাবে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা খুবই কম।

ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত প্রস্তাবে ছয়জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও সমর্থন জানিয়েছেন। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো, গত বছর ট্রাম্প কানাডার ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা প্রত্যাহার করা।

দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার ওপর একের পর এক শুল্ক আরোপ করেছেন। সম্প্রতি তিনি কানাডা প্রস্তাবিত চীনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির প্রতিক্রিয়ায় ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশনে ভোট চলাকালে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে কোনো রিপাবলিকান যদি শুল্কের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তবে নির্বাচনের সময় তাঁকে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘শুল্ক আমাদের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং কোনো রিপাবলিকানেরই এ সুবিধা নষ্ট করার দায় নেওয়া উচিত নয়।’

কংগ্রেসে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এ পরিষদে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি সেই চেষ্টায় সফল হননি।

প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে কোনো রিপাবলিকান যদি শুল্কের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তবে নির্বাচনের সময় তাঁকে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন রিপাবলিকান সদস্য দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত প্রস্তাবকে সমর্থন জানানোর কারণে এটি সহজে পাস হয়ে যায়।

ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন’ এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন