যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পক্ষে মত দিয়েছে এ ঘটনা তদন্তে গঠিত ৯ সদস্যের কংগ্রেস কমিটি। তারা তাঁর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ওই হামলার জন্য দাঙ্গাকারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।
কংগ্রেস কমিটি বলছে, ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের আক্রমণের প্ররোচনা দিয়েছিলেন। এটি করতে গিয়ে তিনি একাধিক আইন লঙ্ঘন করেছেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির কোনো ঘটনাই তাঁর প্ররোচনা ছাড়া ঘটত না বলে কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে।
৯ সদস্যের কংগ্রেস কমিটিতে সাতজন ডেমোক্র্যাট। অন্য দুজন রিপাবলিকান হলেও তাঁরা ব্যাপকভাবে ট্রাম্পবিরোধী।
কমিটির সদস্যরা বলছেন, চারটি অভিযোগে ট্রাম্পকে বিচারের মুখোমুখি করার তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
বিষয়গুলো হলো দাপ্তরিক কার্যক্রমে বাধা, রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং বিদ্রোহকারীদের প্ররোচিত করা, সাহায্য করা ও আশ্রয় দেওয়া।
গতকাল সোমবার কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে ওই ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টে চারটি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনার প্রস্তাবে সদস্যরা সবাই ভোট দিয়েছেন। কমিটি এ তদন্তে ১৮ মাস সময় নিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে ঘটনাই ঘটতে যাচ্ছে না কেন, তার বেশির ভাগের প্রভাবই হবে রাজনৈতিক কেন্দ্রিক।
‘সংকেত মাত্র’
কংগ্রেস কমিটি যে অপরাধের জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছে, যদি তাতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হতেন, তাহলে তাঁর কয়েক হাজার ডলার জরিমানা, ২০ বছর পর্যন্ত জেল এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিষিদ্ধ হতে পারতেন। কিন্তু এখানে তা হওয়ার সুযোগ নেই বললে চলে।
কারণ কমিটির এ ভোট অনেকাংশে প্রতীকী মাত্র। কোনো ফেডারেল অপরাধের জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করার ক্ষমতা কংগ্রেসের নেই। এই ক্ষমতা আছে শুধু মার্কিন বিচার বিভাগের হাতে।
এর ভোট দিয়ে, কংগ্রেস কমিটি মূলত বিচার বিভাগের কাছে আইনি সুপারিশ করেছে মাত্র। তারা বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে তা-ই এ সুপারিশের মধ্য দিয়ে তারা তুলে ধরেছে। তারা প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন তথ্য ও নথি জোগাড় ও যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে অভিযোগের অনুকূলে একটি ভান্ডার তৈরি করেছে। তবে বিচার বিভাগ এসব জিনিস দিয়ে কি করে, তা কমিটির নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
ট্রাম্পের আইনি সমস্যা
কমিটির সুপারিশের সামান্য আইনি ওজন থাকতে পারে। বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতির (ট্রাম্প) দ্বারা সম্ভাব্য অপরাধমূলক কাজের বিষয়ে তদন্ত করছে।
ফেডারেল অ্যাটর্নিদের দ্বারা গঠিত একটি জুরিবোর্ড ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এবং প্রচারাভিযানের কয়েক ডজন কর্মকর্তাকে ডেকেছে। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হবেন—এমন ঘোষণা তিনি ইতিমধ্যে দিয়েছেন। এরই মধ্য গত মাসে অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তের সব দিক পরিচালনার জন্য জ্যাক স্মিথ নামের একজন বিশেষ পরামর্শদাতাও নিয়োগ করেছেন।
জ্যাক স্মিথের কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে সাতটি রাজ্যের কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত তলবনামা পাঠানো হয়েছে। ২০২০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টার সময় ট্রাম্প বা তাঁর উপদেষ্টারা এসব ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
ক্যাপিটাল হামলাই ট্রাম্পের একমাত্র আইনি উদ্বেগের বিষয় নয়। কারণ, জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেট নিয়েও তদন্তও করছেন। জর্জিয়ার একজন ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলাও রয়েছে।
রাজনৈতিক পতন
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, তাঁকে আবার ক্ষমতায় আসতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এসব ফৌজদারি ও দেওয়ানি অভিযোগের তদন্ত চালানো হচ্ছে।
আইনি ও তদন্ত পদ্ধতি যা হোক, ট্রাম্পের জন্য পুরো বিষয়টি নেতিবাচকই। কারণ, এটি দিন দিন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে শিরোনাম হবে। এসব আমেরিকানদের ৬ জানুয়ারির সহিংসতার কথা মনে করিয়ে দেবে।
ইতিমধ্যেই, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে রাজনীতির মাঠে ট্রাম্পের অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোর তথ্য বলছে, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে, তিনি রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নের জন্য ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্তিসের চেয়ে পিছিয়ে আছেন।