ইরানের দিকে ‘যুদ্ধজাহাজের বহর’ পাঠানোর কথা জানালেন ট্রাম্প

টানা বিক্ষোভের পর ইরানের রাজধানী তেহরানে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি একটি রণতরিসহ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের একটি বহর ইরানের দিকে পাঠাচ্ছেন। তবে তিনি আশা করছেন, তাঁকে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে না।

তেহরানকে আবার সতর্ক করে ট্রাম্প আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে বা পারমাণবিক কর্মসূচি আবার চালু করার চেষ্টা করলে তা ইরানকে গুরুতর পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে।

এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরও বাড়তি আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা স্থাপনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যা এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের সম্ভাব্য কোনো হামলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এই মোতায়েন ট্রাম্পের হাতে আরও কিছু বিকল্প এনে দেবে। যেমন একদিকে এটি বর্তমান উত্তেজনার সময়ে পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও দেবে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের ভেতর সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেদিকে আমাদের অনেক জাহাজ যাচ্ছে, শুধু যদি প্রয়োজন পড়ে… আমি চাই না কোনো ঘটনা ঘটুক, তবে আমরা তাদের ওপর কড়া নজর রাখছি।’

তাঁর এই হুমকির পর ফাঁসি কার্যকর করার মাত্র এক ঘণ্টা আগে ইরান তা বাতিল করে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের ফাঁসি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ভালো লক্ষণ’ বলেন।

কথা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও বলেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর সেদিকে যাচ্ছে, তবে হয়তো আমাদের তা ব্যবহার করতে হবে না।’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলতে শুরু করে।

ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় বারবার হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ থেকে ইরানে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলতে শুরু করে।

গত সপ্তাহ থেকে বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া নিয়ে গত সপ্তাহেই ট্রাম্প ইরানকে সবচেয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পরে ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা থেকে সরে আসে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনিই বন্দী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি আটকে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তাঁর হুমকির পর ইরান প্রায় ৮৪০ জনের ফাঁসি বাতিল করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, আপনারা যদি ওই লোকগুলোকে ফাঁসি দেন, তাহলে আপনাদের ওপর এমন আঘাত আসবে, যা আগে কখনো আসেনি। তখন আপনাদের ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমরা যা করেছি, সেটাও অনেক ক্ষুদ্র বলে মনে হবে।’

আরও পড়ুন

এই হুমকির পর ফাঁসি কার্যকর করার মাত্র এক ঘণ্টা আগে ইরান তা বাতিল করে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের ফাঁসি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ভালো লক্ষণ’ বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অতীতে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়ে মাঝেমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বাহিনী মোতায়েন করেছে, যা প্রায়ই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল।

তবে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে বড় ধরনের শক্তিবৃদ্ধি করেছে।

আরও পড়ুন