ইরানে আরও বড় হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানে আবারও বড় পরিসরের সামরিক হামলা শুরুর কথা ভাবছেন ট্রাম্প। এ হামলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে প্রথম দফায় চালানো হামলার চেয়েও বড় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ কথা বলেছেন।

ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের পরিণতি হতে পারে সুদূরপ্রসারী। তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এখনো তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কখন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সে বিষয়েও তিনি কোনো কিছু স্পষ্ট করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেছেন, বড় ধরনের হামলা শুরুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সামরিক বাহিনীকেও নতুন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এরই মধ্যে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। তবে ট্রাম্পের কথা অনুযায়ী, তিনি বড় ধরনের হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছেন। এ জন্য সব প্রস্তুতিও শেষ করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাইলে ইসরায়েল দুই মিনিটের মধ্যে এতে যোগ দেবে।’ তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কারও প্রয়োজন নেই’ বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, হামলায় ইসরায়েল অংশ নিলে তাকেও ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন সে ক্ষেত্রে ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

তবে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানিরা আলোচনা করতে চায়। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা কোনো চুক্তি করতে প্রস্তুত নয়। তাদের এখন পর্যন্ত যথেষ্ট মূল্য চোকাতে হয়নি।

মধ্যস্থতা–প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের সর্বশেষ প্রস্তাব ইরানের নেতৃত্ব এখনো গ্রহণ করেননি।

গত ১২ দিনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা ঠেকানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত ইরান তাদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। দেশটি অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা আরও জোরদার করেছে। এদিকে ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজে হামলা শুরু করেছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা বেড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প গতকাল তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, হুতিরা যদি আবারও লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করবে। তিনি আরও বলেন, হুতিরা ইরানের প্রক্সি বা ছায়া বাহিনী। তাই ইরানের পাশাপাশি ‘হুতিদের বিরুদ্ধেও বড় ধরনের সামরিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।