ভোটার তালিকায় কুকুরের নাম

প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নারী নিজের কুকুরকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করিয়েছেন। দুটি নির্বাচনে তিনি কুকুরের হয়ে ভোটও দিয়েছেন। এমন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে পাঁচটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি ডিসট্রিক্টের অ্যাটর্নির মুখপাত্র কিম্বারলি এড্‌জ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত নারীর নাম লরা লি ইউরেক্স (৬২)। তিনি নিজের কুকুর মায়া জিন ইউরেক্সকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করিয়েছিলেন। এরপর ২০২১ সালে গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত অভিশংসন নির্বাচনে এবং ২০২২ সালের প্রার্থী বাছাই নির্বাচনে (প্রাইমারি) কুকুরের নামে ডাকযোগে ব্যালট পাঠান। এর মধ্যে প্রথম ভোটটি গোনা হলেও দ্বিতীয়টি বাতিল হয়ে যায়।

গত অক্টোবরের শেষের দিকে স্থানীয় এক বাসিন্দা অরেঞ্জ কাউন্টি ভোটার নিবন্ধন দপ্তরকে জানান, লরা তাঁর কুকুরের নাম ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করিয়েছিলেন। এরপর কুকুরের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়েছিলেন।

এ তথ্য জানার পর অরেঞ্জ কাউন্টির অ্যাটর্নি অফিস বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিজের নিবন্ধিত কুকুরের নামে ভোট দেওয়া নিয়ে ইউরেক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও দিয়েছিলেন।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে ইউরেক্স নিজের কুকুরের গায়ে ‘আই ভোটেড’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দিয়েছিলেন। এমনকি কুকুরটির মৃত্যুর পরও ২০২৪ সালের অক্টোবরে কুকুরের নামে ডাকযোগে ব্যালটের ছবি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘মায়া এখনো তার নামে ব্যালট পাচ্ছে।’

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্টমিনস্টার সুপিরিয়র কোর্টে ইউরেক্সকে হাজির করার কথা ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে ভোট দেওয়া, ভুয়া নথি দাখিল, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সব অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, রাজ্যের নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের সময় আবাসিক প্রমাণপত্র বা পরিচয়পত্র দেখানোর প্রয়োজন নেই। এ কারণেই কুকুরের নামে পাঠানো প্রথম ভোটটি গোনা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে এ ধরনের প্রমাণ আবশ্যক। তাই দ্বিতীয় ভোটটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

এই বিষয়ে জানতে ইউরেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। অন্যদিকে মায়া আসলে কোনো প্রার্থীকে পক্ষে ভোট দিয়েছিল, তা–ও জানা যায়নি।