দক্ষিণ চীন সাগরে বিরোধপূর্ণ স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ এলাকার কাছে পালাওয়ান দ্বীপের অবস্থান। স্প্রাটলিতে নৌবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য চীন ইতিমধ্যে সমুদ্রের তলদেশকে প্রস্তুত করে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামও এ দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশের মালিকানা দাবি করে থাকে।

পালাওয়ান দ্বীপ এলাকার কিছু অংশ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বেশির ভাগ এলাকাকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে থাকে বেইজিং। ২০১৬ সালে একটি আন্তর্জাতিক সালিসি রায়ে বলা হয়, চীনাদের দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এ রায় ছিল ম্যানিলার জন্য জয়। তবে রায়টি এখনো কার্যকর হয়নি।

গতকাল সকালে ফিলিপাইন ঘোষণা করেছে, দেশটির তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও গুদামঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে ওয়াশিংটন ৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় করবে। ২০১৪ সালে করা এক যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় এগুলো নির্মাণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তিন ঘণ্টা মুখোমুখি বৈঠক করেছেন। আর এরপর কমলা হ্যারিসের এ সফর চীনকে হতাশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে বিপুল তেল ও গ্যাসের মজুত আছে। এখানে প্রতিবছর জাহাজে করে পাঁচ লাখ কোটি ডলার সমমূল্যের বাণিজ্য হয়ে থাকে। নৌ অভিযানের কারণে জায়গাটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুও।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষাবিষয়ক মিত্রতা রয়েছে। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের শাসনাধীন অবস্থায় চীনা বিনিয়োগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ফিলিপাইন সরকার বেইজিংয়ের সমালোচনা করত না।

আগস্টের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পেলোসির ওই সফরের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানকে ঘিরে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া চালায় চীন।

বিমান ও নৌবাহিনীর এই মহড়ায় কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছিল চীনের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরাপত্তা ও জলবায়ুসংক্রান্ত কিছু সংলাপও স্থগিত করে বেইজিং।

এ সফরের মধ্য দিয়ে তিন মাসে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ায় যাচ্ছেন কমলা হ্যারিস। তাঁর প্রথমবারের সফরে কমলা হ্যারিস অভিযোগ করেছিলেন, চীন প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভয়ভীতি দেখায় এবং জবরদস্তি করে।