বিদ্যুতের খুঁটির মাথায় ভালুক
শুরুতে কেউই ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছিলেন না, ওপরে আসলে কী দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে অনেক উঁচু একটি বিদ্যুতের খুঁটির মাথায় আড়াআড়ি শুয়ে ছিল একটি কালো ভালুক। একদম নিশ্চল থাকায় কেউ কেউ ভেবেছিলেন, প্রাণীটি হয়তো মারা গেছে। তবে একটু পরই সেটি নড়ে ওঠে।
সড়কে চলাচল করা গাড়িগুলোর গতি কমে আসে। কৌতূহলী মানুষ গাড়ি ঘুরিয়ে আবার দেখতে শুরু করেন। সবার হাতে হাতে উঠে আসে মুঠোফোন। কারণ, ভালুকটি জীবিত থাকলেও সেখানে আটকা পড়েছিল।
গ্ল্যাডস্টোন নামের ছোট এক লোকালয়ের কাছে খুঁটির ক্রসআর্মে আশ্রয় নেওয়া ভালুকটির চারপাশে ছিল সচল বৈদ্যুতিক তার। নিচে গাড়ি ও মানুষের ক্রমেই বাড়তে থাকা ভিড়। অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখতে দেখতেই কঠিন উদ্ধার অভিযানে রূপ নেয়, যেখানে কোনো নিরাপদ উপায়ই খোলা ছিল না।
বন্য প্রাণী কর্মকর্তারা চাইলে প্রাণীটিকে চেতনানাশক দিয়েও নামাতে পারছিলেন না। কারণ, এত ওপর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়লে ভালুকটির বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা ছিল না। তা ছাড়া এটি নিচে থাকা গাড়ি বা মানুষের ওপরও পড়তে পারত। বিদ্যুতের লাইন সচল থাকায় কাছে যাওয়াটাও ছিল চরম বিপজ্জনক।
তাই প্রাণীটি যেন নিজ থেকেই নিচে নেমে আসে, সেই আশায় উপস্থিত জনতাকে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়; কিন্তু ভিড় কমেনি। গাড়ি থামিয়ে চালকেরা দেখতে থাকেন, কেউ কেউ ভিডিও করেন। আর ভালুকটি তার জায়গাতেই বসে থাকে।
বন্য প্রাণী কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকারীরা নিরাপদে সেখানে পৌঁছানোর আগেই প্রাণীটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে মারাত্মক আহত হয়ে মারা যায়।
এই পরিণতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর আবহই পাল্টে দেয়। যেসব ভিডিও শুরুতে এক অদ্ভুত ও প্রায় অবিশ্বাস্য বন্য প্রাণীর সাক্ষাৎ হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেগুলোই পরবর্তী সময়ে রূপ নেয় এমন এক প্রাণীর করুণ পরিণতির দৃশ্যে, যার যাওয়ার আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
মাঝেমধ্যেই কালো ভালুক বিদ্যুতের খুঁটিতে ওঠে। গাড়ি, কুকুর বা মানুষের ভয়ে স্বভাবগতভাবেই তারা গাছের মতো খুঁটিতে চড়তে যায়। কিন্তু খুঁটিতে লুকানোর কোনো জায়গা থাকে না, আর ওপরে থাকে সচল বিদ্যুতের তার। অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রাণী উদ্ধারের নজির থাকলেও নিউ মেক্সিকোর এ ঘটনায় সাহায্য পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে যায়।