যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএনের অনুষ্ঠান স্টেট অব দি ইউনিয়নে বাইডেনর বাড়ি থেকে গোপন নথি উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ডিক। তবে ট্রাম্পের রিসোর্ট থেকে গোপন নথি উদ্ধার ও বাইডেনর বাড়ি থেকে গোপন নথি উদ্ধারের বিষয় একভাবে দেখতে চান না তিনি।

সিএনএনের এই অনুষ্ঠানে ডিককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সরকারি যেসব নথি বাইডেনের বাড়িতে থাকা উচিত নয় সেই সব নথি রেখে তিনি মর্যাদার আসন হারিয়েছেন কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে ডিক বলেন, সত্যি বলতে, তিনি (বাইডেন) অবশ্যই মর্যাদার জায়গা হারিয়েছেন।

ডিক বলেন, মর্যাদাপূর্ণ একটি আসনে থাকা একজন ব্যক্তি এমনটা ঘটাতে পারেন না। কারও কাছ থেকে যখন এমন নথি পাওয়া যায় তখন তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বলেন, অধীনস্থ কর্মী কিংবা কোনো আইনজীবীর ভুলের কারণে এমন ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধিকে এর দায় বহন করতে হয়।

গোপন নথি নিজের কাছে রাখার বিষয়ে বাইডেন ও ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের বিস্তর ফারাক দেখছেন ডিক। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতেন কোথায় নথিগুলো আছে। তবে তিনি এটা অস্বীকার করেছিলেন। এরপর আদালতের আদেশও অবজ্ঞা করেছিলেন তিনি। পরে মার-এ লাগোতে তল্লাশি চালিয়ে ওই সব গোপন নথি উদ্ধার করা হয়।

ডিক বলেন, এখানেই বাইডেনের সঙ্গে ট্রাম্পের পার্থক্য। নথি উদ্ধারের এমন ঘটনায় বাইডেন বিব্রত হয়েছেন, সেটাই হওয়ার কথা। তিনি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের ডেকে তাঁর কাছে সংরক্ষিত থাকা বাক্সগুলো পরখ করতে বলেছেন। ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে এখানেই বড় পার্থক্য বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে গত শুক্রবারও বাইডেনের উইলমিংটনের বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ১৩ ঘণ্টা ধরে চলে এই তল্লাশি অভিযান। এই অভিযান আরও কিছু গোপন নথি পাওয়া গেছে। বাইডেনের ব্যক্তিগত আইনজীবী বব বাওয়ের নিজেই বিবৃতি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার ছিল। তারা তদন্তের জন্য নানা সামগ্রী নিয়ে গেছে। এই সামগ্রীর মধ্যে সরকারি ছয়টি গোপন নথি রয়েছে। বাইডেন যখন সিনেট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখনকার নথি রয়েছে এর মধ্যে।

সরকারি গোপন নথি নিজের কাছে রেখে দেওয়ায় ডিক শুধু একা বাইডেনের ওপর চটেছেন এমনটা নয়। আরও কয়েকজন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাও তাঁর ওপর চটেছেন। অনেকেই তাঁর কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জো ম্যানচিন। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাইডেন যেভাবে গোপন নথি সংরক্ষণ করেছেন তাতে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এ ছাড়া বাইডেনের এমন পদক্ষেপকে বিরক্তির বলেও মন্তব্য করেছেন। নথি সংরক্ষণের এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছেন তিনি।

ডেমোক্রেটিক পার্টির ভার্জিনিয়ার সিনেটর টিম কেইনও বাইডেনের সমালোচনা করেছেন। এই ঘটনার তদন্তের জন্য নিরপেক্ষ কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য জন গ্যারামেন্ডি এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাইডেনের এমন কর্মকাণ্ড বিব্রতকর।