ইরান যুদ্ধ গড়াল ১০০ দিনে, ট্রাম্প হিমশিম খাচ্ছেন যেখানে

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘর্ষের মধ্যে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন জ্বলছে। তেহরান, ইরান, ২ মার্চছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। আজ রোববার সেই যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হলো।

একদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে সংঘর্ষও পুরোপুরি থামেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ মার্কিন জনগণের কাছে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে এটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগেই বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে বোমা হামলার বিরোধিতা করছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও সেই চিত্র বদলায়নি। অনেক ভোটার মনে করছেন, এই যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক শিবলি তেলহামি বলেন, ‘এটা এখন মোটামুটি স্পষ্ট যে খুব কম মার্কিন নাগরিকই মনে করেন যে ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লাভ হচ্ছে।’

মার্কিন জনসমর্থনের এই ঘাটতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, যুদ্ধ নিয়ে মানুষের অসন্তোষ নিজ দেশে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের আশা করছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। তারা সফল হলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের বাকি সময়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির বড় অংশই বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ পোল’ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জিতবে বা ইতিমধ্যে জিতেছে।

এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয়, যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বারবার করা বিজয়ের দাবির ওপর জনগণ পুরোপুরি আস্থা রাখছে না।

যুদ্ধ শুরুর আগেই বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে বোমা হামলার বিরোধিতা করছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও সেই চিত্র বদলায়নি। অনেক ভোটার মনে করছেন, এই যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী।

জরিপে আরও দেখা গেছে, রিপাবলিকান ভোটারদের ৩৩ শতাংশসহ মোট ভোটারের বেশির ভাগ মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাব বেশি ফেলেছে।

অন্যদিকে জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যুদ্ধের প্রভাব নেতিবাচকের তুলনায় ইতিবাচক বেশি।

শিবলি তেলহামির কাছে জরিপের এই ফলাফল ‘বিস্ময়কর’।

তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানদের মধ্যেও এখন এই ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বয়স্ক ও তরুণ—উভয় বয়সী রিপাবলিকানদের মধ্যেই এই মনোভাব দেখা যাচ্ছে। এটি ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।’

অব্যাহত অবরোধ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে দেশটি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

গত এপ্রিলের শুরুতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধও বহাল রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি রেখেছে।

ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটানোর মতো কোনো বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।

যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘর্ষ না ঘটলেও যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ সম্পর্কে মানুষের ধারণায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।

ইরানে সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিক্ষোভে একজনের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা, আরেকজন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি তুলে ধরে আছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, ২ মার্চ
ছবি: এএফপি

ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের (আইজিএ) কর্মসূচি পরিচালক জনাথন গাইয়ারের মতে, এটি এখন একটি ‘অত্যন্ত অজনপ্রিয়’ যুদ্ধ। তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় কিছুটা বেশি। কিন্তু রিপাবলিকানদের মধ্যেও যে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে, সেটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।’

গত মাসে আইজিএ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্প যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, তা সমর্থন করেন না। এদের মধ্যে ২১ শতাংশ ছিলেন রিপাবলিকান। মাত্র ২৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করেছে।

সাধারণত ভোটারদের অগ্রাধিকারের তালিকায় পররাষ্ট্রনীতি খুব ওপরে থাকে না। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর। ফলে তাঁরা এখন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বেশ সচেতন হয়ে উঠছেন।

গত ৬ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধও বহাল রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি রেখেছে।

আইজিএর জরিপে অংশ নেওয়া ৭৯ শতাংশ ভোটার বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র— সব ধরনের ভোটারই রয়েছেন।

শিবলি তেলহামির মতে, যুদ্ধ এখন আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমস্যারও অংশ হয়ে উঠেছে। আর মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘এটি এখন মানুষের পকেটের বিষয়। এটি আর শুধু দূর দেশের কোনো সংঘাত নয়। এর প্রভাব এখন সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের জীবনে পড়ছে।’

‘আমি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরোয়া করি না’

যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে বরাবরই খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তিনি প্রায়ই শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির দিকটি দেখান।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য পূরণে অর্থনৈতিক কষ্ট সামান্য মাত্র। যদিও তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

গত মাসে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবি না। আমি কারও কথাই ভাবি না। আমি শুধু একটি বিষয় নিয়ে ভাবি— ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনও তাঁর ইরাননীতি নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখছে না।

তবে শিবলি তেলহামির মতে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিষয়টিকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন, যাতে ইরান মনে না করে যে তিনি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া।

তেলহামি বলেন, ‘তিনি অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। বিশেষ করে অর্থনীতি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ তাঁর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য বড় সংকট তৈরি করবে। এর রাজনৈতিক মূল্যও রিপাবলিকান পার্টিকে দিতে হতে পারে।

ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটানোর মতো কোনো বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।

শিবলি তেলহামি বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বেন। তখন তাঁর জন্য নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যাবে, এমনকি অভিশংসনের মুখেও পড়তে পারেন।’

সমালোচকদের মতে, সাধারণ মানুষ যখন অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে, তখন তাদের দুর্ভোগকে গুরুত্ব না দিলে ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা খেতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিভিন্ন বিষয়ে সহজেই মনোযোগ হারাতে দেখা যায়। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টগুলোতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি আগ্রহ দেখান। একমুহূর্তে তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে পোস্ট করেন। আবার অন্য মুহূর্তে হয়তো তিনি প্রতিপক্ষ বা সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করে পোস্ট করেন। আবার কখনো হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ নিয়ে কথা বলেন।

জনাথন গাইয়ার বলেন, ‘আমরা এমন একজন যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্টকে দেখছি, যাঁর মধ্যে প্রধান সেনানায়কের মতো দায়িত্বশীলতা নেই।’

হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ বসে ইরানে হামলা পর্যবেক্ষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: হোয়াইট হাউস

যুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়েননি ট্রাম্প

শিবলি তেলহামি বলেন, ইরানে হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসন জনগণের কাছে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করার কোনো বড় উদ্যোগ নেয়নি। কংগ্রেসেও বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়নি।

বরং হামলার আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল। এমনকি ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার সময়ও নতুন বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল।

তেলহামি বলেন, ‘প্রায় সব যুদ্ধে প্রেসিডেন্টরা আগে জনগণকে প্রস্তুত করেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যুদ্ধের পক্ষে কোনো যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা দেখা যায়নি।’

তেলহামি উদাহরণ হিসেবে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচারণার কথা উল্লেখ করেন।

তেলহামি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক হস্তক্ষেপগুলোর প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরোধী সেই অবস্থানই ট্রাম্পকে নির্বাচনে জিততে সহায়তা করেছিল। কারণ, ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ যুদ্ধের পর মার্কিন জনগণ সামরিক সংঘাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।

জনাথন গাইয়ারের মতে, ইরান যুদ্ধের অজনপ্রিয়তার কারণ শুধু অর্থনীতি নয়। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ এমন অনেক বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে, যেগুলো মার্কিন ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয়।