হেলিকপ্টারের দুই ক্রু উদ্ধার: যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ব্যবহার করা সি ড্রোনটি আসলে কী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর নেভাল বেস করোনাডোতে চালকবিহীন নৌযান স্কোয়াড্রন (ইউএসভিআরওএন) ৩-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট (জিএআরসি)। ১৫ মে, ২০২৪ছবি: ইউএস নেভি/রয়টার্স

হরমুজ প্রণালিতে গুলি করে ভূপাতিত করা একটি অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ড্রোন। সমুদ্রে কর্মীদের উদ্ধারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চালকবিহীন নৌযান বা সি ড্রোন ব্যবহার করা হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ড্রোনটির নাম ‘সারোনিক করসেয়ার’। ২৪ ফুট (৭.৩ মিটার) দৈর্ঘ্যের এ নৌযান সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে।

প্রথাগত সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি চালকবিহীন যানের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন যে উদ্যোগ নিয়েছে, এ ড্রোনটি তারই অংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের সি ড্রোন বা সামুদ্রিক ড্রোন প্রযুক্তির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

আরও পড়ুন

নৌবাহিনীর নতুন ধরনের ইউনিট

২০২১ সালে বাহরাইনে ‘টাস্কফোর্স ৫৯’ নামে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রথম চালকবিহীন যানবিষয়ক বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্স গত মার্চ মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘করসেয়ার’ ড্রোন মোতায়েন শুরু করে।

প্রথাগত সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি চালকবিহীন যানের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন যে উদ্যোগ নিয়েছে, এ ড্রোনটি তারই অংশ।

পানির ওপরে ও নিচে ড্রোন

যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রের উপরিভাগ ও নিচে—উভয় স্থানেই চালকবিহীন যান মোতায়েন করে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী অধিনায়কেরা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধা পান। পানির নিচের অনেক অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির তথ্য এখনো অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে। এসব ড্রোন মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বিশেষ সুবিধা দেয়।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো ড্রোন না হলেও, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সি ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধক্ষেত্রে এটির বড় প্রভাব প্রমাণ করেছে। ইউক্রেন সি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, এমনকি একটি হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করেছে। চালকবিহীন নৌযানের জন্য এটি একটি নজিরবিহীন সাফল্য।

নজরদারি থেকে আক্রমণ

সামুদ্রিক ড্রোনগুলো সাধারণত নজরদারি, মাইন বা সমুদ্রবোমা শনাক্তকরণ ও শত্রুর গতিবিধি ট্র্যাক বা নজর রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে কিছু ড্রোনকে যুদ্ধের উপযোগী করেও গড়ে তোলা হচ্ছে। সাধারণ নজরদারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ—উভয় ধরনের অভিযানেই এগুলো বেশ কার্যকর।

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সু সিটি এলাকায় এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের পেইন্ট ফ্যাসিলিটি থেকে একটি এফ-৮০ যুদ্ধবিমান তুলে নিচ্ছে আইওয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টার। ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল তোলা ছবি
ছবি: ইউএস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড

কম খরচ ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সুবিধা

কম খরচে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পেন্টাগন স্বয়ংক্রিয় নৌযানের পেছনে বিনিয়োগ করছে। মার্কিন নৌবাহিনী ভবিষ্যতে শত শত বা হাজার হাজার ‘করসেয়ার’ ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তবে এ প্রযুক্তি এখনো বিকাশমান এবং এটি কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রমাণিত সক্ষমতা

এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো ড্রোন না হলেও, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সি ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধক্ষেত্রে এটির বড় প্রভাব প্রমাণ করেছে। ইউক্রেন সি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, এমনকি একটি হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করেছে। চালকবিহীন নৌযানের জন্য এটি একটি নজিরবিহীন সাফল্য।

আরও পড়ুন