অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনীত হলেন টড ব্ল্যাঞ্চ

ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ (মাঝে) ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেস ভবনে সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও লিসা মারকোভস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসছেন। ৫ আগস্ট ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনীত হয়েছেন টড ব্ল্যাঞ্চ। স্থানীয় সময় আজ শনিবার স্বল্প ব্যবধানে দেশটির সিনেট তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে অনুমোদন দেয়।

ব্ল্যাঞ্চকে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছিল। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বিতর্কিত মন্ত্রিসভা নিয়োগসংক্রান্ত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল। কারণ, এই পদে ব্যাপক স্বাধীনতা তিনি কীভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তা নিয়ে অনেক রিপাবলিকান সিনেটরের উদ্বেগ ছিল। তাই তাঁর মনোনয়ন প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল।

সিনেটে ৫০-৪৯ ভোটে ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ অনুমোদিত হয়। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও লিসা মারকোভস্কি তাঁর বিপক্ষে ভোট দেন। দোলাচল শেষে সিনেটর বিল ক্যাসিডি শেষ পর্যন্ত ব্ল্যাঞ্চের পক্ষে ভোট দেন। তিনি ভোট না দিলে ব্ল্যাঞ্চের মনোনয়ন আটকে যেত।

শুক্রবার ক্যাসিডি জানিয়েছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ট্রাম্প যেসব প্রার্থীকে সামনে আনতে পারেন, তাঁদের মধ্যে ব্ল্যাঞ্চকেই তিনি সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেন।

এই ভোটের মধ্য দিয়ে ব্ল্যাঞ্চকে ঘিরে সিনেটের রিপাবলিকানদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার অবসান হলো। এপ্রিল থেকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্ল্যাঞ্চ। এর আগে তিনি বিচার বিভাগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে দপ্তরটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়টি ব্ল্যাঞ্চ যেভাবে সামলেছেন, তা নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটরদের অনেকে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ১৮০ কোটি ডলারের ‘প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক অপব্যবহারবিরোধী’ তহবিল গঠন এবং ট্রাম্প ও তাঁর ছেলেদের কর-সুরক্ষা দেওয়ার চুক্তিতে ব্ল্যাঞ্চের ভূমিকা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন।

তবে গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে একের পর এক বৈঠকের মাধ্যমে ব্ল্যাঞ্চ এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি লিখিতভাবে কর-সুরক্ষা চুক্তির পরিধি কমানো এবং ‘প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক অপব্যবহারবিরোধী’ তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া বন্ধ করতে সম্মত হন।

সমালোচকেরা এই তহবিলকে ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য একটি গোপন তহবিল হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

ওই কর-সুরক্ষা চুক্তি ও তহবিল—দুটিই আইআরএসের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১ হাজার কোটি ডলারের মামলা থেকে তৈরি হয়েছে। চুক্তির আওতায় ট্রাম্প, তাঁর ছেলে ও তাঁদের পারিবারিক ব্যবসার আগের কর বিবরণী নিরীক্ষা থেকে আইআরএসকে বিরত রাখা হয়েছিল।