প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে মঙ্গল গ্রহের সমান একটি গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীর একটি অংশ মহাশূন্যে ছিটকে পড়ে এবং পরে সেটা চাঁদ হিসেবে আমাদের পৃথিবীর চারপাশে আজও পরিভ্রমণ করে চলেছে। তাই মহাকাশবিজ্ঞানীরা সব সময় মহাকাশে নজর রাখেন। কোথাও কোনো গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে আসছে কি না। অ্যাস্টেরয়েড ২০২২ এনএফ গ্রহাণুটি পৃথিবীর খুব কাছাকাছি দূরত্বেই এসেছিল। ২৫ হাজার মাইল, মানে পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্বের মাত্র ২৩ শতাংশ দূরে দিয়ে গেছে। গ্রহাণুটি খুব ছোট, মাত্র ১৮ থেকে ৪১ ফুট চওড়া ছিল বলে রক্ষা।

যদি একটু বড় হতো অথবা আরও কাছে দিয়ে যেত, তাহলে বিপদ হতে পারত। লাইভ সায়েন্স অনলাইনে বিজ্ঞান লেখক ব্র্যানডন স্পেক্টর এ বিষয়ে ৭ জুলাই বিস্তারিত লিখেছেন। নাসার হিসাব অনুযায়ী, কোনো গ্রহাণু যদি অন্তত ৪৬০ ফুট চওড়া ও পৃথিবীর অন্তত ৫৬ লাখ মাইলের মধ্যে চলে আসে, তাহলে সেটা পৃথিবীতে আঘাত করতে পারে। অ্যাস্টেরয়েড ২০২২ এনএফ পৃথিবীর অনেক কাছে চলে এসেছিল, কিন্তু আকারে ছিল খুব ছোট, তাই আশঙ্কা তেমন ছিল না।
নাসা ও অন্যান্য মহাকাশ সংস্থা সব সময় লক্ষ রাখে, কোনো দিক দিয়ে কোনো গ্রহাণু এসে পড়ছে কি না।

কারণ, আগে থেকে জানতে পারলে সেসব গ্রহাণুর চলার পথ বদলে দেওয়া সম্ভব। নাসা এ বিষয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে কোনো গ্রহাণুর কক্ষপথ পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি মহাকাশযান মহাশূন্যে পাঠিয়েছে। একে ওরা বলছে ‘ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডায়রেকশন টেস্ট (ডারট)’। এটা এ বছর, ২০২২ সালের শরৎকালে, ৫২৫ ফুট চওড়া গ্রহাণু ডিমরফস-কে সরাসরি আঘাত করবে। এর ফলে গ্রহাণুটি ধ্বংস হবে না, কিন্তু এর কক্ষপথ সামান্য বদলে যেতে পারে।

এই পরীক্ষা সফল হলে আকস্মিক কোনো বিপদ এড়ানোর একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে কোনো গ্রহাণু যদি পৃথিবীতে আঘাত হানার হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে তার গতিপথ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারব হয়তো। এভাবে গ্রহাণুর আঘাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা সম্ভব।

*লেখক: আব্দুল কাইয়ুম, সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো এবং মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন