মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১ লাখ ভোটে এগিয়ে আল–সাইদ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী আবদুল আল–সাইদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সর্বশেষ ৬০ শতাংশের বেশি ভোট গণনায় আল–সাইদ এক লাখের কাছাকাছি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
আল–সাইদ এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯৭৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকানপ্রার্থী রজার্স পেয়েছেন ১৫ লাখ ২২ হাজার ২১৮ ভোট।
সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইদ এবং সাবেক কংগ্রেস সদস্য রিপাবলিকান মাইক রজার্স মিশিগানের এই সিনেট আসনে লড়ছেন। ডেমোক্র্যাক নেতা হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকানপ্রার্থীকে সমর্থন করেন। তাঁর এই দলবিরোধী অবস্থানের কারণে তিনি দলের ভেতর ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন।
বাইরের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীসহ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা এই লড়াইয়ে কোটি কোটি ডলার ঢেলেছেন। এই সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এরই মধ্যে তাদের কাছে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় এই আসনে আল–সাইদের জয়ের অর্থ সিনেটে নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত করা।
এল-সায়েদ এবং রজার্স—উভয়েই এমন ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন যারা সাধারণত প্রতিপক্ষের জোটকে সমর্থন করে থাকেন। ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে আল-সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিনিধি পরিষেদর সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে নিজ দলের গণ্ডি পেরিয়ে রজার্সকে সমর্থন দিলে এই নির্বাচনের উত্তাপ চরম রূপ নেয়।
ইসরায়েল ইরান যুদ্ধ নিয়ে আল-সাইদের বক্তব্য এবং তাঁর সাথে ব্যক্তিগত বিরোধকে হ্যালি নিজের এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে হ্যালির এই দলত্যাগ হয়তো শেষ পর্যন্ত আল-সাইদকেই বেশি সাহায্য করেছে। কারণ, এতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁর সমর্থনে লাখ লাখ ডলার তহবিল আসতে শুরু করে।
অন্যদিকে রজার্স ও তাঁর দলও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে সমান আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাঁরা বিশ্বাস করেছিলেন, হ্যালির সমর্থন মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্র ভোটার এবং ইহুদি ভোটারদের তাঁর শিবিরে নিয়ে আসবে।
আল-সাইদ তাঁর আগ্রাসী রাজনৈতিক কৌশল এবং ওয়াশিংটন ডিসির প্রচলিত রাজনীতির ধারা পাল্টে দেওয়ার অঙ্গীকার করে নিজ দলের অনেককে অসন্তুষ্ট করে তুলেছিলেন। তিনি তাঁর প্রচারকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে অর্থনৈতিক গণমুখী নীতি, নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কার এবং ‘সবার জন্য মেডিকেয়ার’ ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছিলেন।
রজার্স এমন এক রিপাবলিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য সব সম্পদ ঢেলে দিয়েছিলেন, যারা ট্রাম্পকে দুইবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে সাহায্য করেছিলেন। একইসঙ্গে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করেন।
রজার্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সহযোগীরা জোর দিয়ে প্রচার চালিয়েছেন, আল-সাইদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান এবং প্রগতিশীল নীতিগুলো তাদের সম্প্রদায়গুলোকে ঝুঁকিতে ফেলবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
কয়েক মাস ধরে চলা জনমত জরিপে আল-সাইদকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে।