যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান সাময়িক বরখাস্ত

করিম খানছবি: এএফপি ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকারী সংস্থা গতকাল সোমবার প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। নিজ দপ্তরের এক কর্মীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যদেশগুলোর পরিষদ, অর্থাৎ অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিসের ২১ সদস্যের ব্যুরো বিষয়টিকে এএসপির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে আইসিসির সব সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা আছেন।

এএসপির ব্যুরো এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত কৌঁসুলিকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে।’

তবে এ সাময়িক বরখাস্ত কোনোভাবেই মামলার চূড়ান্ত ফলাফলের ইঙ্গিত নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ব্যুরো।

ব্যুরো মনে করছে, আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রমের ওপর এ সিদ্ধান্ত খুব বেশি একটা প্রভাব ফেলবে না। কারণ, ৫৫ বছর বয়সী করিম খান নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মোকাবিলার জন্য ২০২৫ সালের মে মাসেই স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে ছুটিতে গিয়েছেন। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে চলা মামলায় আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের দায়িত্ব থেকেও করিম খানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি আইসিসির সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটি।

আরও পড়ুন

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করিম খানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে যত দ্রুত সম্ভব সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পরিষদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।

করিম খান গাজায় যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য সফলভাবে আবেদন করেছিলেন। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসেন এই ব্রিটিশ আইনজীবী।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র ক্ষোভ জানায়। এর পরপরই তিনি ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার শিকার হন। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া প্রথম ব্যক্তিদের একজন তিনি।