মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব চাতুর্যের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নানা অপমানজনক নাম দিতে ভালোবাসেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিছুটা খাটো, সে জন্য তাঁর নাম দিয়েছেন ‘লিটল মার্কো’। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বয়সের কারণে খানিকটা শ্লথ, সে কারণে তাঁর নাম দিয়েছেন ‘স্লিপিং জো’। কিঞ্চিৎ স্থূলকায় হওয়ায় অভিনেত্রী রোজি ও’ডনেলের নাম দিয়েছেন ‘ফ্যাট পিগ’।
কিন্তু ট্রাম্প এবার নিজেই আটকে গেছেন সে রকম এক নামে। সবাই এখন তাকে ‘টাকো’ নামে ডাকা শুরু করেছে। চার আদ্যক্ষরে টাকো মানে ‘ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেন্স আউট’। বাংলায় দাঁড়ায়, ট্রাম্প বরাবর ভয়ে পিছিয়ে আসেন। ভয়ে হোক বা না হোক, তিনি হরহামেশা মত বদলান। বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে তাঁর কাণ্ড ধরুন। চীনের বিরুদ্ধে আজ ১৪৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করলেন, দুই দিন পর তা কমিয়ে আনলেন ৩০ শতাংশে।
ইরানের বিরুদ্ধেও ‘টাকো ট্রাম্প’ একই রকম হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেবেন যে ইরানি সভ্যতা বলে কিছু থাকবে না। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত আটটা থেকে হামলা শুরু হবে, প্রথম লক্ষ্য ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। রাত আটটা বাজার দেড় ঘণ্টা আগে মত বদলে তিনি জানালেন, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে তিনি সম্মত হয়েছেন।
তা ট্রাম্প ‘টাকো’ হোন বা না হোন, তাঁর এই সিদ্ধান্তে আমরা সবাই হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছি। তিনি নিজে ‘আমার জয় হয়েছে’ বলে দুই বগল বাজাচ্ছেন বটে, কিন্তু মার্কিন ভাষ্যকারেরা বলছেন, এই ৩৮ দিনের যুদ্ধে সবচেয়ে বড় হার তাঁরই হয়েছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মেয়ার্শহাইমার যুদ্ধ শুরুর আগেই বলেছিলেন, এই যুদ্ধে ট্রাম্প হারবেন, সঙ্গে আমেরিকাও। যুদ্ধে ইরান জিততে পারবে না ঠিক, কিন্তু তাকে জিততেও হবে না। তার কাজ শুধু টিকে থাকা, আর সেটাই হবে তার জন্য বিশাল জয়। ইরানের ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে ট্রাম্প যে যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেন, তাতে সেই জয়ই প্রমাণিত হয়েছে।
যেভাবে হার হলো ট্রাম্পের
এই যুদ্ধে ট্রাম্পের পরাজয় কতটা সর্বব্যাপী, তা ধরা পড়ে যদি আমরা মাত্র দুই দিন আগে তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের এক বার্তার কথা মনে করি। তাতে তিনি বলেছিলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। কিন্তু নিঃশর্ত নয়, ইরানের বেঁধে দেওয়া ১০ দফার ভিত্তিতেই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেন ট্রাম্প। এই ১০ দফা শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরান পারমাণবিক শক্তি গবেষণা চালিয়ে যাবে ও হরমুজ প্রণালি তার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আরও বলা হলো, উপসাগর থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
এসব শর্ত থেকে ইরানকে কিছুতেই পরাজিত বলা যায় না। যুদ্ধ বন্ধের কোনো আশু তাড়াও সে দেখায়নি। যত তাড়া ছিল ট্রাম্পের। সিআইএর সাবেক প্রধান লিওন পানেটা বলেছেন, আসলে ট্রাম্পই পিছু হটলেন আগে। যুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করলেও তাঁর কোনো কৌশলগত লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। ইরানের সরকারের পতন হয়নি, তাদের লুকানো পরিশোধিত ইউরেনিয়াম আমেরিকার দখলে আসেনি, এমনকি হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবিও ইরান মানেনি। ইরান বলেছে সে প্রণালিটি খুলে দেবে, তবে নিয়ন্ত্রণ থাকবে তার সেনাবাহিনীর হাতে।
ট্রাম্প যে ইরানি শর্তের ভিত্তিতে ঝটপট যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেন, তার বড় কারণ রাজনৈতিক। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন, নানা কারণে দেশের মানুষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। তার ওপর যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ও শেয়ারবাজারে ধস নামায় ট্রাম্পের সমর্থনে ভাটা পড়েছিল। তিনি আসলে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজছিলেন। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আসামাত্রই ‘রাজি’ বলে যুদ্ধ থামিয়ে দিলেন। তাতে অবশ্য ‘আমি জিতেছি’ এই পুরোনো দাবি ঘুরেফিরে বলা থামল না।
কূটনৈতিকভাবেও পরাস্ত হয়েছেন ট্রাম্প। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মিত্রই তাঁকে সঙ্গ দেয়নি। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সাহায্য করার জন্য তিনি ন্যাটো মিত্রদের হাত-পায়ে ধরা ছাড়া বাকি সবকিছুই করেছেন, কোনো দেশই তাঁর কথায় সায় দেয়নি। ‘এটা আমাদের যুদ্ধ নয়।’ ‘কই, যুদ্ধ যাওয়ার আগে তো এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটা কথাও বলোনি।’ এ কথা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁর এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের। হতাশ হয়ে, অনেকটা ব্যর্থ প্রেমিকের মতো ট্রাম্প পরে বলেছেন, ‘লাগবে না তোমাদের, আমি একাই ইরানকে শায়েস্তা করার জন্য যথেষ্ট।’
ন্যাটোর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প লিখলেন, ‘আমাদের কোনো কাজেই তোমাদের পাই না। এমন ন্যাটোর সদস্য হয়ে লাভ কী?’ ট্রাম্পের এই অবস্থানের কারণে আন্তমহাসাগরীয় এই সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট মাখোঁ তো বলেই দিয়েছেন, ন্যাটো এখন ‘ব্রেইন ডেড’, অর্থাৎ সে কার্যত মৃত।
ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দিয়ে কুৎসিত ভাষায় যে বার্তাটি ট্রাম্প লেখেন, তা–ও তাঁকে বলতে গেলে একঘরে করে ফেলে। এমনকি তাঁর অনুগত সমর্থকেরাও বিস্ময় প্রকাশ করেন। ৯ কোটি মানুষের একটা দেশকে ধ্বংস করা তো বটেই, তেমন হুমকি দেওয়াও যুদ্ধাপরাধ। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, এটি একটি যুদ্ধাপরাধ। সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সতর্ক করে বলেন, ‘এসব কথা ও কাজ আমাদের মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করে।’ নিউইয়র্ক টাইমস–এর টম ফ্রিডম্যান মন্তব্য করেন, একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেওয়া কোনো পরাশক্তির আচরণ হতে পারে না। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় ডেভিড ইগনাতিয়াস লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে যে আন্তর্জাতিক নীতি-নিয়ম গড়ে তুলেছে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য তাঁকে সে বিশ্বব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দিতে পারে।
অন্য কথায়, এটি শুধু ইরানের প্রতি একটি হুমকি ছিল না, এটি ছিল সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি এক গভীর চ্যালেঞ্জ।
এবং নেতানিয়াহু
এই যুদ্ধে ট্রাম্পের সঙ্গী ছিলেন ইসরায়েল ও তার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। নিউইয়র্ক টাইমস–এর ম্যাগি হ্যাবারমান জানাচ্ছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর আপত্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে ট্রাম্প ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বুঝিয়েছিলেন, যুদ্ধ শুরু হলে ইরানে সরকারবিরোধী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়বে এবং ইসলামিক বিপ্লবী সরকারের পতন হবে। বাস্তবে তেমন পতন তো হয়নি, উল্টো ক্ষমতার কেন্দ্রে আগের চেয়ে তুলনামূলক কম উদারপন্থী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ লিখেছে, ‘ইসরায়েলি সেনারা যথেষ্ট ধ্বংস করেছে তা ঠিক, কিন্তু যে কৌশলগত কারণে আমরা যুদ্ধে গেলাম, তার কোনোটাই অর্জিত হয়নি।’
এই যুদ্ধটা নেতানিয়াহুর প্রয়োজন ছিল। একাধিক দুর্নীতির মামলার কারণে তিনি জেলে যাওয়ার বিপদে রয়েছেন। গাজায় গণহত্যার জন্য তিনি দেশের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনার সম্মুখীন অবস্থায়। এই অবস্থায় নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে তাঁর একটা যুদ্ধ দরকার ছিল, যে যুদ্ধে তিনি চূড়ান্ত জয়ের সংবাদ আনবেন, এ কথা বলেছেন ইসরায়েলি ভাষ্যকার গিডিয়ন লেভি। বাস্তবে ঘটল উল্টো।
ইরান ও উপসাগরীয় দেশ
এই যুদ্ধে না জিতেও শুধু টিকে থেকে জিতে গেছে ইরান, কথাটা হয়তো ঠিক। কিন্তু যুদ্ধ শেষে শান্তি ফিরে এলে ইরান যে প্রবল সংকটে পড়বে, তা সামলানো দেশটির নতুন নেতৃত্বের পক্ষে খুব সহজ হবে না। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধ করে ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ করা না গেলেও শান্তির সময় সেই একই ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গেও তার বিবাদ আরও বাড়তে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোকে আমরা এই যুদ্ধে ‘লুজার’ বা পরাজিতদের তালিকায় রাখতে পারি। অর্থনৈতিকভাবে ইরানের পর তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরব আমিরাতে গ্যাসক্ষেত্রগুলো ইরানি হামলায় এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেসব সারিয়ে নিতে বছর পাঁচেক লাগতে পারে। একসময় এই দেশগুলোকে ভাবা হতো ‘সেইফ হ্যাভেন’ বা অতিনিরাপদ স্থান। এখন আর সে কথা বলা যাবে না। কমে যেতে পারে বিদেশি বিনিয়োগ।
ইরানের সঙ্গে আরব দেশগুলোর বিশেষ করে সৌদি আরবের বিবাদ দীর্ঘদিনের পুরোনো। ইরানকে বাগে রাখতেই তারা নিজ দেশে একদিকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বসিয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সন্ধি চুক্তিতে জড়িয়েছে। অথচ প্রয়োজনের সময় দেখা গেল, মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি তাদের ইরানের হামলা থেকে বাঁচাতে পারল না, উল্টো সেসব ঘাঁটির কারণেই ইরানের আক্রমণের সম্মুখীন হলো। এ কথা উল্লেখ করে কার্নেগি এন্ডাউমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুশায়ের লিখেছেন, এই যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই দুই দেশের ওপরেই ক্ষিপ্ত হয়েছে। ফলে এদের সম্পর্কের নতুন মেরুকরণ ঘটতে পারে। অন্যদিকে ইরানের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আগের চেয়েও কঠোর হবে।
পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ
এই যুদ্ধে ‘শুদ্ধ জয়ী’র তালিকায় যদি কাউকে রাখতে হয়, তো সে হলো পাকিস্তান। যুদ্ধবিরতি অর্জনে দূতের কার্যকর ভূমিকা পালন করে প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনীর দেশের ভেতরে-দেশের বাইরে প্রশংসায় ভাসছেন। ট্রাম্প তাঁদের নাম উল্লেখ করে ধন্যবাদ দিয়েছেন। ইরানও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ইরান ও পাকিস্তানের পেছনে ছাতা ধরে রেখে ফায়দা লুটে নিয়েছে চীন। তাকেও জয়ীর তালিকায় রাখা যায়।
রাশিয়াকেও জয়ের তালিকায় ফেলা যায়। ইরান যুদ্ধে তেলের দাম আকাশচুম্বী, তাতে মস্কোর পোয়াবারো। ন্যাটো দুর্বল হচ্ছে, সেটাও তার জন্য সুখবর। যুদ্ধ চালাতে গিয়ে আমেরিকার ড্রোন ও মিসাইলবিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টরে টান পড়েছে, তাতেও লাভ রাশিয়ার।
যুদ্ধে অংশ না নিয়েও ঠকে গেছে এমন দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত। যুদ্ধ শুরুর দুই দিন আগে ইসরায়েল সফর করে নিজ দেশেই সমালোচিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মোদির কারণে ভারত বিশ্বদরবারে ধিক্কৃত হচ্ছে। একজন ভাষ্যকার এ কথাও বলেছেন, মোদি ও নেতানিয়াহুর উষ্ণ আলিঙ্গন দেখে তিনি লজ্জিত হয়েছেন।
ঠকে যাওয়ার তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো যদি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে, তার ঝাপটা পড়বে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর। কূটনৈতিকভাবেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বাংলাদেশ। যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার নিন্দা না করে ঢাকার পররাষ্ট্র দপ্তর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শুকনো উদ্বেগ জানিয়ে দায়সারা গোছের একটি বিবৃত দেয়। এমনকি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার পরও ঢাকা তার নিন্দা করে বক্তব্য দেয়নি। ব্যাপারটা এতটাই দৃষ্টিকটু ছিল যে ঢাকার ইরানি রাষ্ট্রদূত প্রেস ব্রিফিং করে তাঁর হতাশা ব্যক্ত করেন। ‘বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু, তাদের কাছ থেকে এমন দায়সারা বিবৃতি আমরা আশা করি না,’ রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি বলেছেন।
পরে এক ফিরতি বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে, কিন্তু তাঁকে হত্যা করল কে, সে কথাটি জানাতে ভুলে যায়। সম্ভবত পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্তাদের অনভিজ্ঞতার কারণেই বাংলাদেশের প্রতি ইরানি রাষ্ট্রদূতের হতাশা প্রকাশ পেল।