এই মহাজাগতিক মেঘের কেন্দ্রে যে নবীন নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে, সেটি ‘প্রোটোস্টার এল১৫২৭’ নামে পরিচিত। এটি বালুঘড়িসদৃশ ওই মেঘের এক প্রান্তে ঘূর্ণমান মেঘের চাকতির অন্ধকারে ছিল। কিন্তু এর প্রান্ত দিয়ে যে আলোকচ্ছটা বের হচ্ছিল, তা ওই মেঘের ওপর পড়ে আলোকিত করে রেখেছে।

নাসার বিবৃতিতে বলা হয়, এই মেঘ সৃষ্টি হয়েছে নক্ষত্রের সঙ্গে এর আশপাশের বস্তুর সংঘর্ষের ফলে। নীল রঙের অংশে ধুলার স্তর অত্যন্ত হালকা আর কমলা রঙের অংশে অত্যন্ত ভারী। এ প্রোটোস্টারের বয়স এক লাখ বছরের সমান। এটি তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে এখনো এর নিজস্ব জ্বালানি তৈরি হয়নি।

এর চারপাশে ঘিরে থাকা আমাদের সৌরজগতের সমান কালো চাকতিটিই নক্ষত্রটিকে শক্তি জোগাবে এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করবে। বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘এই নক্ষত্রের গঠন দেখে আমাদের সৌরজগৎ প্রাথমিক অবস্থায় কেমন ছিল সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। পৃথিবী থেকে ৪৩০ আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত টার্টারাস নক্ষত্রপুঞ্জে এর অবস্থান।’

এ বছরের জুলাই মাস থেকে মহাকাশ পর্যবেক্ষণে কাজ শুরু করা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ। হাবল স্পেস টেলিস্কোপটির উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি তৈরিতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে নাসা ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি। নাসার বিজ্ঞানীরা এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করে পাওয়া ১ হাজার ৩০০ কোটি বছর আগের মহাবিশ্বের এক রঙিন ছবির বিষয়টি সামনে আনেন। এরপর আকাশগঙ্গা ছায়াপথের দূরতম স্থানে পৃথিবীসদৃশ একটি গ্রহে পানি থাকার চিহ্নও শনাক্ত করে হইচই ফেলে দেয় এ টেলিস্কোপ। বৃহস্পতির অভূতপূর্ব ছবি দিয়ে বিশ্ববাসীকে বিমোহিত করেছে এটি। এখন মহাজাগতিক মেঘের এই ছবি সামনে এল। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, আবিষ্কারের নতুন একটি যুগের সূচনা করেছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ।