কীভাবে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করতে হয় এবং গ্রেনেড ও আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করতে হয়, তা শিখিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ৪২ বছর বয়সী এ নারী যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছিলেন।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আদালতে শুনানি চলার সময় অ্যালিসন ফ্লুক একরেনও বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করছেন তিনি। তবে দীর্ঘ বক্তব্যের বেশির ভাগ সময়জুড়ে নিজের এমন আচরণের পেছনে যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। অপতৎপরতাকে কম করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

সিরিয়ায় কেমন জীবন যাপন করতেন, তা বিচারপতিকে বলতে গিয়ে সন্তানদের একটি ছবি দেখান একরেন। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে পিৎজা খাচ্ছেন। একরেন বিচারপতিকে বলেন, ‘আমরা খুব সাধারণ জীবন যাপন করতাম।’

তবে ফ্লুক একরেনের নিজের সন্তানেরাও আদালতে মায়ের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন। মায়ের দ্বারা শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার আদালতে একরেনের মেয়ের জবানবন্দি পড়ে শোনানো হয়েছে। মেয়ে বলেছেন, তাঁর মা নিপীড়নের আলামতগুলো লুকিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে পটু। একবার মা তাঁর মুখমণ্ডলে উকুননাশক ঢেলে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন মেয়ে। তিনি বলেন, এতে তাঁর মুখে ফোসকা পড়ে যাচ্ছিল এবং চোখ জ্বালা করছিল। ফ্লুক একরেন তখন মেয়ের মুখ থেকে রাসায়নিকগুলো ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে মেয়ে আর তা করতে দেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে দেখাতে চেয়েছিলাম, তিনি কেমন মানুষ। চাচ্ছিলাম, আমি যেন অন্ধ হয়ে যাই।’ তবে ফ্লুক একরেন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন, আইএসের শক্ত ঘাঁটি রাকার নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনীর হাতে চলে যাওয়ার আগে তিনি শুধু নারীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

ফ্লুক একরেনের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকার বাসিন্দা। মার্কিন আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশ ছেড়ে সিরিয়ায় চলে যাওয়ার আগে একরেন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।