অগ্নিকাণ্ডের পর ইরান যুদ্ধে মোতায়েন মার্কিন রণতরি ফোর্ডকে গ্রিসের বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেটিকে সাময়িকভাবে বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধের ১৮তম দিনে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই বিমানবাহী রণতরি বর্তমানে লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজটি সাময়িকভাবে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে-তে নেওয়া হবে।
প্রায় ৯ মাস ধরে মোতায়েন এই যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার আগে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলা অভিযানে অংশ নেয়। দীর্ঘ সময়ের এই মোতায়েন জাহাজে থাকা নাবিকদের মনোবল ও যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জেরাল্ড আর ফোর্ড সৌদা বে–তে থাকবে কত দিন, তা জানা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তাও এ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, জাহাজের প্রধান লন্ড্রি অংশে আগুন লাগে। এতে ধোঁয়ার কারণে প্রায় ২০০ নাবিককে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে এবং প্রায় ১০০টি শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আঘাতের কারণে একজন সদস্যকে জাহাজ থেকে হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। তবে আগুন লাগার পরপরই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, জাহাজটির প্রপালশন প্ল্যান্টে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিমানবাহী রণতরিটি এখনো পুরোপুরি কার্যক্ষম আছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
পাঁচ হাজারের বেশি নাবিক বহনকারী ফোর্ডে ৭৫টির বেশি সামরিক উড়োজাহাজ আছে। এর মধ্যে এফ/এ–১৮ সুপার হর্নেটের মতো যুদ্ধবিমানও আছে। জাহাজটিতে থাকা অত্যাধুনিক রাডার আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে।
ফোর্ডের সঙ্গে থাকা সহায়ক জাহাজের মধ্যে আছে—মিসাইল ক্রুজার নরমান্ডি, মিসাইল ধ্বংসকারী টমাস হান্ডার, রামেজ, কার্নে ও রুজভেল্ট। এসব জাহাজে আকাশ প্রতিরক্ষা, পৃষ্ঠতল হামলা ও সাবমেরিনবিরোধী সক্ষমতা আছে।