যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনকে জন্মদিনে ‘অশালীন চিঠি’ পাঠাননি, আবারও দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: এএফপি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, যৌন নিপীড়ক জেফরে এপস্টেইনের জন্মদিনে বিতর্কিত শুভেচ্ছাবার্তাটি তিনি পাঠানটি। ওই বার্তায় থাকা স্বাক্ষরটি তাঁর নয়। প্রয়াত এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে চলমান সমালোচনার মধ্যে নতুন করে এমন দাবি করলেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আমার স্বাক্ষর নয়। আর এটা আমার কথা বলার ধরনও নয়। আমাকে নিয়ে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ করে আসছেন, তাঁরা জানেন যে এটা আমার ভাষা নয়। এসব অর্থহীন।’

এর আগে হোয়াইট হাউস বলেছে, স্বাক্ষরটি যে ট্রাম্পের নয়, তা প্রমাণ করতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এই চিঠি লেখেননি। তিনি এই চিঠিতে স্বাক্ষরও করেননি।’

২০০৩ সালে জেফরে এপস্টেইনের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে ২৩৮ পৃষ্ঠার একটি ‘বার্থডে বুক’ (শুভেচ্ছাবার্তা ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন–সংবলিত বই) তৈরি করা হয়। ওই বইয়ে থাকা একটি শুভেচ্ছাবার্তাই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিতর্কের মধ্যে আছেন ট্রাম্প। এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় মারা যান। যৌন কাজের জন্য নারীদের পাচারের অভিযোগে তাঁকে আটক রাখা হয়েছিল।

গত সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ওই চিঠি প্রকাশ করেন। প্রয়াত এপস্টেইনের সম্পদ দেখভালকারী আইনজীবীদের কাছ থেকে বইটি হাতে পাওয়ার পরই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। ওই চিঠিতে এক নগ্ন নারীর অবয়ব আঁকা হয়েছে এবং সেখানে শুভেচ্ছাবার্তা লেখা হয়েছে।

গত সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ওই চিঠি প্রকাশ করেন। প্রয়াত এপস্টেইনের সম্পদ দেখভালকারী আইনজীবীদের কাছ থেকে বইটি হাতে পাওয়ার পরই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। ওই চিঠিতে এক নগ্ন নারীর অবয়ব আঁকা হয়েছে এবং সেখানে শুভেচ্ছাবার্তা লেখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

তথাকথিত এই বার্থডে বুকে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির শুভেচ্ছাবার্তাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওন ব্ল্যাক ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিৎস।

তথাকথিত এই ‘বার্থডে বুক’-এ আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির শুভেচ্ছাবার্তাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওন ব্ল্যাক ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিৎস।

এপস্টেইনকে ট্রাম্পের শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোর খবরটি গত জুলাই মাসে প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ট্রাম্প তখনই দাবি করেছিলেন, এই চিঠি তিনি লেখেননি। পরে তিনি ওই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং অন্তত ২ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

আরও পড়ুন

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্থডে বুকটিতে এপস্টেইনের জীবনের বিভিন্ন সময়ের ছবি আছে। এ ছাড়া তাঁর স্কুলের দিনগুলো থেকে শুরু করে বড় হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা, গানের কথা, ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনের একটি প্রচ্ছদ, কিছু অশ্লীল স্কেচ, গল্প ও ব্যক্তিগত রসিকতার কথা উল্লেখ রয়েছে বইটিতে। যে শুভেচ্ছাবার্তাটিকে ট্রাম্পের বলে দাবি করা হয়েছে সেখানে কয়েকটি বাক্য লেখা আছে। শেষ বাক্যে লেখা, ‘শুভ জন্মদিন—এবং প্রতিটি দিন হোক আরেকটি চমৎকার গোপনীয়তার।’

গত মাসে এপস্টেইনের সম্পদ দেখভালকারী আইনজীবীদের প্রতি সমন জারি করেন আদালত। তাঁদের এপস্টেইনের জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা–সংবলিত বইটিসহ কিছু নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়। এরপর তাঁরা হাউস ওভারসাইট কমিটিতে নথি পাঠান। গত সোমবার হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা চিঠিটির ছবি প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট মিথ্যা বলছেন।