ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি: ‘৮৬ ৪৭’ সংখ্যা লেখা ঝিনুকের ছবিতেই ফেঁসে গেলেন সাবেক এফবিআই প্রধান

সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমির বিতর্কিত ও পরে মুছে ফেলা ইনস্টাগ্রাম পোস্টের স্ক্রিনশট
ছবি: এক্স

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) সাবেক পরিচালক জেমস কোমি গতকাল বুধবার দেশটির একটি ফেডারেল আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হাজির হন তিনি।

উত্তর ক্যারোলাইনার একটি সৈকতে শামুক-ঝিনুক দিয়ে বিশেষ সংকেত তৈরির মাধ্যমে ট্রাম্পকে ওই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গতকাল সংক্ষিপ্ত শুনানির পর বিচারক উইলিয়াম ফিটজপ্যাট্রিক কোনো শর্ত ছাড়াই কোমিকে আদালত ত্যাগের অনুমতি দেন।

গত বছরও বিচার বিভাগ কোমির বিরুদ্ধে একটি মামলা করার চেষ্টা করেছিল, তবে সে সময়ও তাঁর জামিনের কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত মামলাগুলোর গতি বাড়িয়েছেন। গত মঙ্গলবার কোমির বিরুদ্ধে নতুন এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এ মামলার মূল ভিত্তি হলো গত বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোমির পোস্ট করা একটি ছবি। ছবিতে দেখা যায়, সৈকতের বালুতে শামুক ও ঝিনুক দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ সংখ্যা দুটি লেখা। ছবির ক্যাপশনে কোমি লিখেছিলেন, ‘সৈকতে হাঁটার সময় চমৎকার ঝিনুকের বিন্যাস দেখলাম।’

ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার যে দাবি প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিলেন, এ মামলা তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প মনে করেন, বিচারব্যবস্থাকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোমি অন্যতম প্রধান ব্যক্তি।

অভিযোগের মূলে যা আছে

এ মামলার মূল ভিত্তি হলো গত বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোমির পোস্ট করা একটি ছবি। ছবিতে দেখা যায়, সৈকতের বালুতে শামুক ও ঝিনুক দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ সংখ্যা দুটি লেখা। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘সৈকতে হাঁটার সময় চমৎকার ঝিনুকের বিন্যাস দেখলাম।’

এসবের কোনো ভিত্তি নেই। এটি স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য কোনো হুমকি নয়।
—ইউজিন ভালোখ, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হুভার ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো

এ পোস্টের পরপরই রিপাবলিকান দল ও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, এটি প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির শামিল। মূলত ইংরেজি অপভাষায় ‘৮৬’ বলতে কোনো কিছু থেকে মুক্তি পাওয়া বা ছুড়ে ফেলা বোঝানো হয়। আর ট্রাম্প হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট।

কোমির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রতিহিংসামূলক’ মামলার পাল্টা অভিযোগ দায়ের করবেন।

তবে এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হুভার ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো ইউজিন ভালোখ সিএনএনকে বলেন, ‘এসবের কোনো ভিত্তি নেই। এটি স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য কোনো হুমকি নয়।’

আদালতের কার্যক্রম

মামলাটি উত্তর ক্যারোলাইনায় দায়ের করা হলেও কোমির বাড়ির কাছে হওয়ায় শুনানি হয়েছে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার আদালতে। শুনানির সময় কোমি গাঢ় রঙের স্যুট পরেছিলেন এবং আদালতকক্ষে কোনো কথা বলেননি।

কোমির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রতিহিংসামূলক’ মামলার পাল্টা অভিযোগ দায়ের করবেন।

এটি ট্রাম্পের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে কোমির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসে মিথ্যা বলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যা পরে আদালত খারিজ করে দেন।