পাঁচ বছরেই যোগব্যায়ামের শিক্ষক

বিশ্ব রেকর্ডের সনদ হাতে শিশু ফিনিক্সছবি: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সৌজন্যে

শিশুরা যে বয়সে বিদ্যালয়ে যেতে শুরু করে, সেই বয়সে ফিনিক্স জিসেল হিকস পুরোদস্তুর প্রশিক্ষক বনে গেছে। তবে প্রচলিত পড়াশোনার নয়, যোগব্যায়ামের। সেটাই অনন্য স্বীকৃতি এনে দিয়েছে শিশুটিকে। তার নাম উঠেছে গিনেসের রেকর্ডের খাতায়।

ফিনিক্স থাকে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। সম্প্রতি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে শিশুটিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ফিনিক্স মাত্র ৫ বছর ৩৩৭ দিন বয়সে ‘যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক’ হিসেবে একটি প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে শেষ করে। কোর্সটি ছিল ২০০ ঘণ্টার। এর মধ্য দিয়ে সে যোগব্যায়ামের শিক্ষক হয়েছে। সেই সঙ্গে যোগব্যায়ামের সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রশিক্ষক হিসেবে তার নাম রেকর্ডের খাতায় উঠেছে।

মাত্র তিন মাস বয়সে মা সিডনি হিকসের কোলে চড়ে যোগব্যায়ামের ক্লাসে ফিনিক্সের যাতায়াত শুরু। কোর্সটির নাম ছিল ‘মামি অ্যান্ড মি’। পরে সেটাই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ে। ধাপে ধাপে উতরে যায় ফিনিক্স। পায় সনদ।

যেখানে বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষকের সনদ অর্জন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং, সেখানে অনায়াসে অর্জন করে ফিনিক্স।

হিউস্টনে ফিনিক্সের মা সিডনি যোগব্যায়াম শেখান। সেখানে ক্লাস নেয় ফিনিক্স। শুধু শিশুদের নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও যোগব্যায়াম শেখায় সে।

খুদে শিক্ষক ফিনিক্স বলে, ‘আমি মায়ের সঙ্গে ক্লাস নিতে ভালোবাসি। তিনিই আমাকে যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক হতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাই আমরা যখন একসঙ্গে শেখাতে পারি, তখন মজা লাগে।’

প্রশিক্ষণের স্মৃতি হাতড়ে সে আরও বলে, ‘আমি তখন ক্লাসের একমাত্র শিশু। বাকিরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। আমাকে বহু পড়াশোনা করতে হয়েছে। শারীরবিদ্যা সম্পর্কে বিশদ জানতে হয়েছে। লিখতেও হয়েছে। ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের পর্যায়গুলো পার হতে হয়েছে।’

কঠোর পরিশ্রম করার পরই পছন্দের কাজটি করার অনুমতি পাওয়া গেছে জানিয়ে ফিনিক্স বলে, ‘যখন যোগব্যায়াম শেখাই, তখন আমি সম্মানিত ও গর্ববোধ করি।’

মেয়ের অর্জনে ভীষণ খুশি মা সিডনি। তিনি বলেন, ফিনিক্স শক্তিশালী শিক্ষণশৈলীর মাধ্যমে শুধু যোগব্যায়াম শেখাচ্ছে না, আন্দোলন এগিয়ে নিচ্ছে। এটা প্রমাণ করে, গভীরভাবে নিশ্বাস নিতে, কোনো ইচ্ছা পূরণ করতে এবং বিশ্বকে বদলে দিতে বয়স কোনো বিষয় নয়।