কাশ প্যাটেল ও সুসির ফোনের রেকর্ড কেন সংগ্রহ করেছিল এফবিআই
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) বর্তমান পরিচালক কাশ প্যাটেল এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের ফোনের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর খোদ এফবিআই–ই এ কাজ করেছিল।
২০২২ ও ২৩ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্ত চলাকালে ওই দুজনের কলরেকর্ড তলব করা হয়। সে সময় তাঁরা সাধারণ নাগরিক ছিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাশ প্যাটেল নিজেই এই বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছেন।
বাইডেন আমলের এফবিআইয়ের এই পদক্ষেপ নিয়ে রয়টার্সই প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করল। মূলত বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ যখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে গোপন নথি সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তদন্ত করছিলেন, তখনই প্যাটেল ও ওয়াইলসের ওপর নজরদারি করা হয়।
প্যাটেল এ ঘটনাকে বাইডেন সরকারের ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে এফবিআইয়ের তৎকালীন নেতৃত্ব গোপনে আমার ও সুসি ওয়াইলসের ফোন রেকর্ড তলব করেছিল। কোনো ধরনের নজরদারি এড়াতে তারা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই তথ্যগুলো ব্যুরোর সিস্টেমের এমন এক জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিল, যা খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।’
এফবিআইয়ের তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাটেল ও ওয়াইলসসহ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর এভাবে নজরদারি চালানোর তথ্য ফাঁস হওয়ার পর অন্তত ১০ জন এফবিআই কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্যাটেল দাবি করেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্যুরোর দায়িত্ব নেওয়ার পর এই রেকর্ডগুলো খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
তবে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা বরাবরই জ্যাক স্মিথের তদন্তপ্রক্রিয়াকে সমর্থন করে আসছেন। তাঁদের মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ আইনসংগত ছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা সাধারণত কোনো মামলার সূত্র মেলাতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধি বুঝতে ফোনের ‘টোল রেকর্ড’ (কার সঙ্গে কখন কতক্ষণ কথা হয়েছে) তলব করেন।
প্যাটেল জানিয়েছেন, এফবিআই সরাসরি কোনো বিচারকের অনুমতি ছাড়াই সাবপিনার (সমন) মাধ্যমে এসব রেকর্ড সংগ্রহ করেছে। তবে কলের ভেতরের কথা বা আলাপচারিতা রেকর্ড করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সুসি ওয়াইলস ও তাঁর আইনজীবীর একটি কথোপকথনও রেকর্ড করেছিল এফবিআই। ওই আইনজীবী এই রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে জানলেও সুসি ওয়াইলস তখন কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে।
স্মিথের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এর আগে স্মিথ কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, তাঁর তদন্ত দল সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া ও বিচার বিভাগের নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ করেছে। গত সোমবার একজন ফেডারেল বিচারক স্মিথের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
কাশ প্যাটেল জানান, তিনি এফবিআইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তাদের হাতে থাকা বিশেষ নিষিদ্ধ ক্যাটাগরিতে ফাইল লুকানোর ক্ষমতা বাতিল করে দিয়েছেন। রিপাবলিকান নেতারা আগে থেকেই জ্যাক স্মিথের তদন্তপদ্ধতিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন।
এ ঘটনার পর হোয়াইট হাউস বা বাইডেন শিবিরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।