ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ঠিক হবে কি না, সন্দিহান কোনো কোনো মার্কিন সিনেটর
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক পথ হবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা গতকাল রোববার প্রশ্ন তুলেছেন। ইরানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সন্দিহান তাঁরা।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন। তবে গতকাল রোববার অন্তত দুজন সিনেটর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে সতর্ক করেছেন।
রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল এবিসি নিউজের দিস উইক অনুষ্ঠানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি জানি না, ইরানকে বোমা মারলে তা উদ্দেশ্য অনুযায়ী ফল দেবে কি না।’
পল এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করার বদলে দেশটির ওপর সামরিক হামলা চালানো হলে তা মানুষকে বহিরাগত শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করে ফেলতে পারে।
ওয়ার্নার ফক্স নিউজ সানডেকে বলেন, ইরানের ওপর সামরিক হামলা হলে তা ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমনভাবে একত্র করে তুলতে পারে, যা আগে সেখানকার শাসকেরা করতে পারেননি। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কতটা ঝুঁকি আছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর উল্লেখ করেন, ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের সরকার উৎখাতের ঘটনা এমন সব পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, যা ধীরে ধীরে ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে দেশটিতে ধর্মীয় শাসনের উত্থানে পথ তৈরি করেছে।
গতকাল রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান নিয়ে কী করা যায়—সে বিষয়ে সাইবার হামলা, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করবেন।
ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তবে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বরাবরই কড়া পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের উচিত ‘বিক্ষোভকারীদের সাহস জোগানো এবং [ইরানি] শাসকগোষ্ঠীকে ভীষণভাবে ভয় দেখানো।’
ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস’ অনুষ্ঠানে গ্রাহাম বলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আমি যদি আপনার জায়গায় থাকতাম, তাহলে যারা মানুষ হত্যা করছে, সেই নেতৃত্বকেই হত্যা করতাম। আপনাকে এটার অবসান ঘটাতেই হবে।’
১৯৭৯ সালে ইরানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়া শাহর যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া ছেলে রেজা পাহলভি গতকাল রোববার বলেছেন, তিনি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিতে ইরানে ফিরে যেতে প্রস্তুত।
সানডে মর্নিং ফিউচারসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে এ নিয়ে পরিকল্পনা করছি।’
রেজা পাহলভি বলেন, ‘আমার কাজ হলো এই রূপান্তরে নেতৃত্ব দেওয়া—যেন কোনো কিছুই ধরাছোঁয়ার বাইরে না থাকে, যেন পুরোপুরি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, যেন মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের নেতা নির্বাচন করার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরা ঠিক করার সুযোগ পায়।’