গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তি ‘চিরস্থায়ী’ হবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাভোস, সুইজারল্যান্ড। ২১ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: এএফপি

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহারের কয়েক মিনিট পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এখন একটি ‘চুক্তির ধারণা’ বিবেচনায় রয়েছে।

এই চুক্তিতে কী থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এটি ‘একটু জটিল। তবে আমরা পরে তা ব্যাখ্যা করব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই সম্ভাব্য চুক্তি ‘আমি যেমনটা চেয়েছিলাম, ঠিক তেমনই একটি চুক্তি।’

ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতে ইতিমধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে ডেনমার্ক ও জোটের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

চুক্তির বিষয়ে চমকপ্রদ ঘোষণার আগেই রুতের সঙ্গে কথা বলছিলেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই চুক্তি চিরস্থায়ী হবে।’

গ্রিনল্যান্ডবিষয়ক কোনো চুক্তিতে বিরল খনিজ পদার্থ অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, সে ব্যাপারে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেছেন, ন্যাটো ও ডেনমার্কের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি চুক্তির অংশ হবে।

সিএনবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকার শেষে বেরিয়ে আসার সময় ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটোর সঙ্গে তাঁর ‘চুক্তির ধারণা’টি নিয়ে আরও কয়েকটি মন্তব্য করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনা এখনো চলমান। তবে তা ‘অনেকটাই এগিয়েছে’। এই চুক্তির মাধ্যমে ‘আমাদের যা যা পাওয়া দরকার, তার সবই আমরা পাচ্ছি’। বিশেষ করে ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার’ ক্ষেত্রে।

ট্রাম্প পুনরাবৃত্তি করে বলেন, এটি একটি ‘চিরস্থায়ী চুক্তি’ হবে। তবে মালিকানার বিষয়টি আলোচনার অংশ কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে। তিনি মনে করেন, এটি সবাইকে খুব ভালো অবস্থানে রাখবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, খনিজ সম্পদ ও অন্য সবকিছুর ক্ষেত্রে।

ন্যাটোর এক মুখপাত্র বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত হওয়া চুক্তির কাঠামোর মূল লক্ষ্য হবে—মিত্রদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ন্যাটোর এই মুখপাত্র আরও বলেন, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এমনভাবে এগিয়ে যাবে, যার লক্ষ্য হবে রাশিয়া ও চীন যেন গ্রিনল্যান্ডে অর্থনৈতিক বা সামরিকভাবে কখনোই ঘাঁটি গাড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

শুল্ক–হুমকি প্রত্যাহারকে স্বাগত

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থনকারী মিত্রদেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহারের খবরকে ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্বাগত জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোয়েক্কি রাসমুসেন বলেন, দিনটির শুরুটা যেমন ছিল, শেষটা তার চেয়ে ভালো হয়েছে।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাসমুসেন আবার বলেন, তাঁর দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই সংকটের ইতি টানা।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিক হবে, এমনটা কখনোই ঘটবে না। এটি একটি সীমারেখা, যা অতিক্রম করা যাবে না।’

রাসমুসেন বলেন, ‘ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বলপ্রয়োগ করবেন না। এটি একটি ভালো দিক। তবে এটি স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, যা ডেনমার্কের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘সীমানা পরিবর্তনের দাবিগুলো প্রাপ্য সমালোচনা পেয়েছে। আর এ কারণেই আমরা বারবার বলেছি, আমরা ব্ল্যাকমেলের শিকার হব না। মনে হচ্ছে, মিত্রদের সঙ্গে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছে।’

গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের ৮ দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। গত শনিবার এ–সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে গতকাল বুধবার তিনি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন।