ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন। সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দেশ দুটির কূটনীতিকেরা এই নিন্দা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তাঁরা মাদুরো দম্পতির মুক্তি দাবি করেন।

বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যেসব ‘অপরাধ’ করেছে, সেগুলোর বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে চীনের উপরাষ্ট্রদূত গেং শুয়াং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অবৈধ’ ও ‘গুন্ডামির’ পদক্ষেপে বেইজিং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

গত শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যান মার্কিন সেনারা। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতে তাঁদের বিচারও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। শুনানিতে তাঁরা দুজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং মাদুরো বলেন, তিনি এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।

হামলা ও মাদুরো দম্পতিকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানায় ভেনেজুয়েলা। আহ্বান নিরাপত্তা পরিষদের কাছে উপস্থাপন করে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া ১ জানুয়ারি থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বৈঠকের শুরুতে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্য পড়ে শোনান সংস্থাটির আন্ডার সেক্রেটারি রোজমেরি ডিকার্লো। এতে গুতেরেস রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গুতেরেস বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, এর সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রভাব এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি যে নজির স্থাপন করতে পারে, তা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা কিংবা দেশটির জনগণের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং ‘বৈধ’ অভিযোগের ভিত্তিতে করা আইনসম্মত অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বৈঠকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বোমা হামলা চালিয়ে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে এবং এতে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। এটি বেআইনি সশস্ত্র আক্রমণ ও অপহরণ। ভেনেজুয়েলায় হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

মনকাদা বলেন, এই আক্রমণের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এটি জাতিসংঘের সনদে উল্লেখিত শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের সমতা নীতিকে লঙ্ঘন করেছে।