সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন

পেলি সেন্টার ফর মিডিয়ায় একটি প্যানেল আলোচনায় কথা বলছেন সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র। ২৯ এপ্রিল ২০১২ছবি: রয়টার্স

বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার নিউজ নেটওয়ার্ক সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন। তিনি মানবতার কল্যাণেও কাজ করেছেন। আজ বুধবার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। টার্নার এন্টারপ্রাইজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

টেড টার্নারের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে। তিনি আটলান্টার ব্যবসায়ী হিসেবে বেশি পরিচিত ছিলেন। স্পষ্টভাষী হওয়ায় লোকমুখে তাঁর নাম হয়ে যায় ‘দ্য মাউথ অব দ্য সাউথ’। তিনি বিশাল এক গণমাধ্যম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। কেবল টিভির প্রথম সুপারস্টেশন থেকে শুরু করে সিনেমা ও কার্টুনের জনপ্রিয় চ্যানেলগুলো ছিল এই সাম্রাজ্যের অংশ। এর পাশাপাশি ‘আটলান্টা ব্রেভস’-এর মতো পেশাদার স্পোর্টস দলেরও মালিক ছিলেন তিনি।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টার্নারের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ছিল একজন দক্ষ নাবিক (ইয়টসম্যান) হিসেবে। সমাজসেবক হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ইউনাইটেড নেশনস ফাউন্ডেশন’ বা জাতিসংঘ ফাউন্ডেশন। বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূলের দাবিতেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। একজন পরিবেশ সংরক্ষক হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ভূমিমালিকে পরিণত হন। আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে বাইসন (বুনো মহিষ) ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর বড় ধরনের ভূমিকা ছিল। এমনকি শিশুদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে তিনি জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ তৈরি করেছিলেন।

তবে তাঁকে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি এনে দিয়েছিল একটি সাহসী স্বপ্ন। তিনি সারা বিশ্বের খবর প্রতিমুহূর্তে সরাসরি সম্প্রচার করতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই ধারণা সফল হওয়ার পরই তিনি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছান। বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এবং ১৫০টি দেশের দর্শককে তাৎক্ষণিকভাবে ইতিহাসের সাক্ষী বানানোর স্বীকৃতি পান টার্নার। এ জন্য ১৯৯১ সালে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে।

পরবর্তী সময়ে টার্নার তাঁর নেটওয়ার্কগুলো টাইম ওয়ার্নারের কাছে বিক্রি করে দেন। একপর্যায়ে তিনি ব্যবসাজগৎ থেকেও বিদায় নেন। তবে সিএনএন নিয়ে তিনি সব সময়ই গর্ববোধ করতেন। এটিকে তিনি নিজের জীবনের ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’ বলে অভিহিত করেন।

সিএনএন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক থম্পসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘টেড ছিলেন ভীষণ নিবেদিতপ্রাণ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একজন নেতা। তিনি ছিলেন অকুতোভয় ও নির্ভীক। তিনি সব সময় নতুন চিন্তার পৃষ্ঠপোষকতা করতেন এবং নিজের বিবেচনা বোধের ওপর আস্থা রাখতেন।’

মার্ক থম্পসন আরও বলেন, ‘টেড এমন এক মহিরুহ, যাঁর কাঁধে ভর করে আমরা আজ দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের জীবনে ও এই বিশ্বে তাঁর যে প্রভাব, সেটিকে আজ আমরা সবাই মিলে স্মরণ করছি।’

২০১৮ সালে নিজের ৮০তম জন্মদিনের ঠিক এক মাস আগে টার্নার জানান, তিনি ‘লিউই বডি ডিমেনশিয়া’ নামের মস্তিষ্কের এক জটিল রোগে ভুগছেন। এরপর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন। টার্নারের ৫ সন্তান, ১৪ নাতি-নাতনি এবং ২ প্রপৌত্র (নাতির সন্তান) রয়েছে।