মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে আরেকজন নিহত, মাটিতে ফেলে পিটিয়ে কয়েকবার গুলি

অ্যালেক্স প্রেটি নামে ওই ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে পেটানোর পর গুলি করা হয়ছবি: বিবিসির ভিডিও থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন (আইসিই, আইস নামে পরিচিত) এজেন্টদের গুলিতে আরও এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন তাঁর মা ও বাবা। হাসপাতাল সূত্র বলছে, তাঁর নাম অ্যালেক্স প্রেটি। তাঁর বয়স ৩৭ বছর। মিনিয়াপোলিস পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অ্যালেক্সের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি মিনিয়াপোলিসেরই বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, আইসিইয়ের সদস্যরা প্রেটি ও অন্য বিক্ষোভকারীদের দিকে মরিচের গুঁড়া ছুড়ছেন। প্রেটিকে তা প্রতিহত করতে ও অন্য বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে দেখা যায় ওই ভিডিওতে। এ সময় বেশ কয়েকজন আইসিই সদস্য প্রেটিকে মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকেন। এ অবস্থায়ই প্রেটিকে বেশ কয়েকটি গুলি করতে দেখা যায়। রাস্তায় প্রেটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

গবেষক ও সাংবাদিকদের স্বাধীন অনুসন্ধানকারী দল ‘বেলিংক্যাট’ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, প্রথমবার গুলি করার আগে প্রেটির কাছ থেকে একটি বন্দুক কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে অন্তত ১০বার গুলি করতে দেখা যায়। প্রেটি নিথর হয়ে পড়ে থাকার পরও তাঁকে গুলি করা হয়।

পুলিশপ্রধান ও’হারা বলছেন, তাঁদের ধারণা প্রেটির কাছে থাকা বন্দুকটি বৈধ ছিল। তিনি সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। মিনেসোটার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবিকতা ও নিয়ম মেনে চলতে তিনি আইসিই এজেন্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটি এখন আর কেবল অভিবাসন দমনের বিষয় নয়। এটি আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে বর্বরতা।’ তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কতজন বাসিন্দা ও মার্কিন নাগরিকের প্রাণ গেলে এই অভিযান বন্ধ হবে।’

চলতি মাসের শুরুতে রেনি নিকোল গুড নামে এক নারীকে আইসিই সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে। এরপর একজন মার্কিন নাগরিককে তাঁর গাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার আইসিই এজেন্টরা দুই বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবাকে আটক করে টেক্সাসে পাঠিয়ে দেন।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়  হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী লাখ লাখ অভিবাসীকে বিতাড়িত করতে তাদের জনসমর্থন আছে। তবে সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই আইসিই এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার বলপ্রয়োগের বিরোধী।