ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির বিজ্ঞান এবং অনুসন্ধান বিষয়ে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ম্যাককফরেন বলেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের ইনফ্রারেডে ছবি তোলার সক্ষমতা নেপচুন গ্রহণের আবহাওয়ামণ্ডল সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিয়েছে।

এর আগে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে নেপচুনের ছবি তোলা হয়েছিল, তবে তাতে নেপচুন গ্রহটিকে গাঢ় নীল বর্ণের মতো হতো। কারণ, এর বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাসের কারণে গ্রহটির স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি। ম্যাককফরেন বলেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি গ্রহটির উজ্জ্বল আভা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পেরেছে। জেমস ওয়েবের এনআইআর ক্যাম নামের প্রযুক্তিতে তোলা ছবিতে নেপচুন গ্রহটিকে ধূসর সাদা দেখাচ্ছে। এতে বরফের মেঘের পাতলা স্তরটিও চোখে পড়ে।

মার্ক ম্যাককফরেন আরও বলেন, ‘ইনফ্রারেডে নেপচুনের বলয় আরও বেশি প্রতিফলিত হতে দেখা গেছে। এতে এগুলো আরও সহজে বোঝা যাচ্ছে। জেমস ওয়েবে গ্রহটির ১৪টি চাঁদও দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

হাবল স্পেস টেলিস্কোপটির উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি তৈরিতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে নাসা ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি।

গত বছরের শেষ দিকে এটি মহাকাশে কার্যক্রম শুরু করে। গত গ্রীষ্ম থেকেই ইনফ্রারেড ক্যামেরা ব্যবহার করে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করছে টেলিস্কোপটি। এটি পৃথিবী থেকে ১০ লাখ মাইল দূরে অবস্থিত। গত মাসে নাসার বিজ্ঞানীরা এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করে পাওয়া ১ হাজার ৩০০ কোটি বছর আগের মহাবিশ্বের এক রঙিন ছবির বিষয়টি সামনে আনেন। এরপর আকাশগঙ্গা ছায়াপথের দূরতম স্থানে পৃথিবীসদৃশ একটি গ্রহে পানি থাকার চিহ্নও শনাক্ত করে হইচই ফেলে দেয় এ টেলিস্কোপ। পরে বৃহস্পতি গ্রহের অভূতপূর্ব ছবি দিয়ে বিশ্ববাসীকে বিমোহিত করে এটি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন