জর্জিয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থী জিতলেও সিনেট ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকবে। কারণ, সিনেটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ‘টাই-ব্রেকিং’ ভোট রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষমতার প্রথম দুই বছরে সিনেটে এই একই ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। কোনো বিষয়ে দুই দলের ভোট যখন সমানসংখ্যক হয়েছে, তখন কমলা হ্যারিস ‘টাই-ব্রেকিং’ ভোট দিয়ে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে উদ্ধার করেছেন।

এখন সিনেটের যে চিত্র দাঁড়িয়েছে, তা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে তাঁর ক্ষমতার বাকি দুই বছর সুবিধা দেবে।

বাইডেন তাঁর মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে ফেডারেল আদালতের বিচারকের শূন্য পদ পূরণ করতে পারবেন। তিনি তাঁর পছন্দের ব্যক্তিকে প্রশাসনে নিয়োগ দিতে পারবেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো বিচারপতি যদি অপ্রত্যাশিতভাবে অবসরে যান কিংবা মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের শূন্য আসনে বাইডেনের মনোনীত ব্যক্তির নিয়োগ রিপাবলিকানরা আটকাতে পারবেন না। ২০১৬ সালে সিনেটের তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান পার্টি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনীত বিচারপতি প্রার্থীর নিয়োগ আটকে দিয়েছিল।

নেভাদায় ডেমোক্র্যাটদের জয়ের অর্থ হলো, আগামী ৬ ডিসেম্বর জর্জিয়া সিনেটের ‘রান-অফ’ চেম্বারের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আর গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।

অবশ্য বাইডেন বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে ৫১ আসন পেলে আরও ভালো হতো।
কেননা, সিনেটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১ আসন। কোনো দল সিনেটে ৫১ আসন পেলে তাদের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার চর্চাটা সহজ হয়ে যায়। তা ছাড়া ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে ৫১ আসন পেলে তা তাঁদের ২০২৪ সালের নির্বাচনে সাহায্য করত।

এদিকে, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেন। তেমনটা হলে তা-ও প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জন্য বিভিন্ন ধরনের মাথাব্যথার কারণ হবে।

সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ক্ষতি কতটা স্থায়ী হবে, তা দেখার বিষয়। তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হতে চান। অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের ভেতরে বাইডেনের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর আবার প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।