শরীরে ইনসুলিনের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরে শক্তি জোগাতে রক্তের শর্করাকে ব্যবহার করে। বর্তমানে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় রক্তের শর্করা পরীক্ষা এবং ইনসুলিন গ্রহণকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

টাইপ-১ ডায়াবেটিস কী?

ডায়াবেটিসের প্রধান দুটি ধরন আছে। টাইপ-১ ডায়াবেটিস ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস। টাইপ-১ ডায়াবেটিস মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর আঘাত করে এবং ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। আর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে যথেষ্ট ইনসুলিনের উৎপাদন হয় না কিংবা শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায় না।

টাইপ-১ ডায়াবেটিসের চেয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী বেশি দেখা যায়। ওজন কমানো, শরীরচর্চাসহ জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা গেলেও টাইপ-১ হলো জেনেটিক রোগ। এখন পর্যন্ত এটি প্রতিরোধ করার মতো কোনো উপায় আবিষ্কৃত হয়নি। টাইপ-১ ডায়াবেটিস শনাক্ত হতে দেরি হলে শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এতে  শরীরের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

টেপলিজুমাব ওষুধের কাজ কী

২০১৯ সালে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা কিছু মানুষকে পরীক্ষামূলকভাবে টেপলিজুমাব ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা গেছে, তাঁরা যে সময় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় ছিলেন, তার চেয়ে দুই বছরের কিছু বেশি সময় পর আক্রান্ত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিলম্বের বিষয়টি খুব তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে কমবয়সীদের জন্য। কারণ, ওই বাড়তি হিসেবে পাওয়া সময়টুকুতে তাদের ইনসুলিন নিতে হবে না কিংবা নিয়মিত রক্তের শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করাতে হবে না।

গবেষকেরা বলছেন, এ ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের রক্তের শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে আরও বেশি বছর স্বাস্থ্যকর অবস্থায় থাকে। শুধু তা–ই নয়, তারা আরও বেশি দিন রক্তে উচ্চ শর্করাজনিত বিভিন্ন জটিলতায় (কিডনি কিংবা চোখের অসুখসহ বিভিন্ন রোগ) আক্রান্ত হওয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

ভুক্তভোগী এবং সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা মানুষদের বক্তব্য

টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ২০১৪ সালে বেথ বাল্ডউইন নামের এক ব্যক্তি তাঁর ১৩ বছর বয়সী সন্তান পিটারকে হারিয়েছেন। প্রাণঘাতী ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিওডোসিসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পিটারের রোগ শনাক্ত না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। বেথের আশা, এ ধরনের ওষুধ জীবনকে পাল্টে দিতে পারে।

বেথ বলেন, এর মানে এই নয় যে এ ওষুধের মধ্যে দিয়ে টাইপ-১ ডায়াবেটিসকে একেবারে ঠেকিয়ে দেওয়া যাবে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হওয়াকে বিলম্বিত করার কাজটিও অসাধারণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

তাঁর মতে, তিন বছর এ ধরনের ডায়াবেটিস ঠেকিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রোগীর অবস্থা নিয়ে আরও বেশি গবেষণার মতো আরও বেশি সময় পাওয়া যাবে। বেথ বর্তমানে দাতব্য সংস্থা জেডিআরএফ ইউকের সঙ্গে কাজ করছেন। খুব পিপাসা লাগা, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিবার প্রস্রাব করা, খুব ক্লান্ত বোধ করা, ওজন কমে যাওয়াসহ টাইপ-১ ডায়াবেটিসের বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সংস্থাটি কাজ করছে। টেপলিজুমাব ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা চালানোর জন্য সংস্থাটিও আংশিক অর্থায়ন করেছে।

জেডিআরএফ ইউকের আরেক সদস্য র‌্যাচেল কনোর এ ওষুধ সম্পর্কে বলেন, ‘এটি গেম চেঞ্জার। আমি মনে করি এর মধ্য দিয়ে টাইপ-১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।’