এপস্টেইনের সাবেক প্রেমিকা ম্যাক্সওয়েলকে কী লিখেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নতুন প্রকাশিত লাখ লাখ নথি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। এতে যেসব বিখ্যাত ব্যক্তির নাম এসেছে, তাঁদের অনেকে চাপের মুখে রয়েছেন। অনেকে পদত্যাগ করেছেন। অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
এপস্টেইন নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে কয়েক হাজারবার। এবার তাঁর স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে।
সদ্য প্রকাশিত নথিপত্র থেকে জানা গেছে, এপস্টেইনের সাবেক প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েল ও মেলানিয়ার মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল। তাঁরা ২০০২ সালের ২৩ অক্টোবর এই ই-মেইল চালাচালি করেছিলেন।
নথির তথ্য বলছে, নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে এপস্টেইনের পরিচিতিমূলক একটি লেখা প্রকাশিত হওয়া উপলক্ষে ম্যাক্সওয়েলকে অভিনন্দন জানিয়ে ই-মেইল লিখেছিলেন মেলানিয়া। এতে গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে ‘জি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। আর জেফরি এপস্টেইনকে সম্বোধন করা হয়েছে ‘জে.ই’ বলে।
ই-মেইলে মেলানিয়া লিখেছেন, ‘প্রিয় জি! কেমন আছ? নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে জে.ইর গল্পটা দারুণ হয়েছে। ছবিতে তোমাকে দারুণ লাগছে। আমি জানি, তুমি সারা বিশ্বে চষে বেড়ানো নিয়ে ব্যস্ত। পাম বিচ কেমন ছিল? আমার সেখানে যাওয়ার তর সইছে না। নিউইয়র্ক ফিরে আমাকে কল দিয়ো। তোমার সময় ভালো কাটুক! ভালোবাসা নিয়ো, মেলানিয়া।’
প্রকাশিত নথিতে প্রাপকের ই-মেইল ঠিকানা লাল করে দেওয়া হয়েছে। তবে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের উল্লিখিত লেখায় এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যাক্সওয়েলেরও ছবি ছিল।
বিবিসি জানায়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টেইন-সংক্রান্ত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার বেশি নথির পাশাপাশি ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এসব নথি প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণ করে আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিচার বিভাগ সেই সময়সীমার ছয় সপ্তাহ পর নথিগুলো প্রকাশ করেছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে যৌনবৃত্তির বিশাল এক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ ছিল এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। একটি মামলায় যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের এক কারাগারে মারা যান। তখন যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে নারীদের পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলায় তাঁর বিচারকাজ চলছিল।
অন্যদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে সহায়তা করার দায়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন ম্যাক্সওয়েল।